'মমতার একাধিক যুক্তি গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট,' দাবি কল্যাণেরনিজের SIR নিয়ে করা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে দাঁড়িয়ে নিজেই যুক্তি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার সুপ্রিম কোর্টে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট তুলে ধরলেন কোনও রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সুপ্রিম কোর্টের ভিতরে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কখনও তিনি বলেছেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই SIR চালানো হচ্ছে। আবার কখনও ইলেকশন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে ' হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় এদিন বলেন, "আমি নির্বাচন কমিশনকে ছয়টি চিঠি লিখেছিলাম, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি। আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না। আমি কেবল একজন সাধারণ মানুষ। ন্যায়বিচার দরজার আড়ালে কাঁদছে।" এছাড়াও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, জীবনের স্বাভাবিক ও দৈনন্দিন পরিবর্তনগুলিকেও মিসম্যাচ বা লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট আদালত কমিশনকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
আজকের মতো মামলা শেষ হওয়ার পর আদালতের বাইরে এসে বিষয়টি স্পষ্ট করেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে পিটিশন ফাইল করেছিলেন সেই মামলার হিয়ারিং হয়েছে। এর সঙ্গে দোলা সেন ও জয় গোস্বামীর করা মামলারও হিয়ারিং হয়েছে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় আদালতকে বলেছেন, ডিলিশন হচ্ছে ইনক্লুশন হচ্ছে না, ইনক্লুশনও দরকার। মাইক্রো অবজার্ভার ও রোল অবজার্ভার পদে আইনত নিয়োগ করার জায়গা নেই। খান পদবীটা খাঁ করে দিচ্ছে, এগুলো কমিশনের ভুল, মানুষকে কেন হয়রান করা হবে? যে মেয়েদের বিয়ে হয় তাঁদের তো পদবি বদল হচ্ছেই এখানে কী ভাবে নামে অমিল দেখানো হল? এছাড়া ১৫০ জন মারা গিয়েছেন সে কথাও বলেছেন। ইআরও, ডিআরও র ক্ষমতা কেড়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াচ্ছে তা অনৈতিক। ৭০-৭৫ লক্ষ লোকের হিয়ারিং এখনও বাকি বলে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। আদালত জানিয়েছে, দরকারে সময় বাড়ানোর বিষয়টি তাঁরা ভাবনা চিন্তা করছে।"
এরপরই কল্যাণ বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, "মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের বেশিরভাগ পয়েন্টের সঙ্গে বিচারপতিরা কার্যত সহমত পোষণ করেছে। ছোটখাটো ভুলগুলির জন্য যেন মানুষকে ডাকা না হয়। যেন শুধুমাত্র মৃত ও অন্যরাজ্যে চলে যাওয়া ব্যক্তিদের নামই বাদ দেওয়া হয়- বৈধ ভোটারদের নাম যেন বাদ না দেওয়া হয় তা মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন বিচারপতিদের বেঞ্চ। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের হয়ে যা বলার, আজ তার অনেকটাই বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরের হিয়ারিংয়ে যদি আসতে পারেন আবার বলবেন। সোমবার পরের শুনানির দিন রয়েছে।"
উল্লেখ্য, এদিন শুনানিতে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়ে অভিযোগের মুখে দাঁড়িয়ে কমিশনের তরফে আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন,‘আমরা অনেক গুলি চিঠি লিখে ক্লাস টু অফিসার চেয়েছি। পাইনি। ৮০ জন মাত্র ক্লার্ক দেওয়া হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের নিয়োগ করা হয়েছে। রাজ্য সহযোগিতা করছে না। আমাদের অন্য উপায় ছিল না।’
এরপরই পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে রাজ্যের গ্রুপ-বি অফিসারদের একটি তালিকা জমা দিতে হবে বলে জানায় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের তরফে বলা হয়, যে অফিসাররা বাংলা ভাষা বোঝে এমন অফিসারদের তালিকা যেন রাজ্য সরকার দেয়। অন্যদিকে, কমিশনকে আদালতের তরফে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন যেন নামের ছোট ভুলে কাউকে বাদ না-দেয়। শুনানির নোটিস দেওয়ার সময় আরও সতর্ক হতে হবে।