ত্বহা সিদ্দিকীর দাবি, এসআইআর-এর নামে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে বিরক্ত করা হচ্ছে।ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীকে এসআইআর-এর হিয়ারিং নোটিশ। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সাংসদ ও বিধায়কের কাছেই এই নোটিশ পৌঁছেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ত্বহা সিদ্দিকীও।
নোটিশ হাতে পাওয়ার পরেই ত্বহা সিদ্দিকীর দাবি, এসআইআর-এর নামে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে বিরক্ত করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, 'এসআইআর-এর নাম করে মানুষকে বিরক্ত করা হচ্ছে, তার জ্বল জ্যান্ত প্রমাণ আমি নিজেই। আমাকে এসআইআর-এর শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি শুনেছি, আমার বাবার নামেও নাকি নোটিশ আসবে। অথচ তিনি বহুদিন আগেই প্রয়াত।' এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ত্বহা সিদ্দিকীর আরও অভিযোগ, এসআইআর-এর আড়ালে বাংলার সংখ্যালঘু মুসলমানদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ফুরফুরা পঞ্চায়েত এলাকায় মোট ১৪ হাজার ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার মানুষের কাছে এসআইআর-এর শুনানির নোটিশ পৌঁছেছে। এই ৭ হাজারের মধ্যে ৬ হাজার ৮৫০ জনই সংখ্যালঘু মুসলমান। তাঁর দাবি, শুধু ফুরফুরা নয়, সারা পশ্চিমবঙ্গেই যেখানে যেখানে এসআইআর-এর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে, সেখানে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মুসলিম ভোটারদের নামেই নোটিশ যাচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার পিছনে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন ত্বহা। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির ইন্ধনেই এই এসআইআর করা হচ্ছে। বিজেপির মাথায় ঢুকেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলমান ভোটাররা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেন। সেই কারণেই মুসলমান ভোট কী ভাবে বাদ দেওয়া যায়, তা নিয়ে চক্রান্ত চলছে। ত্বহা সিদ্দিকীর স্পষ্ট বক্তব্য, 'বাংলার একটা মুসলমানের নামও বাদ যেতে পারে না। কারণ আমরা ভারতবর্ষে বসবাস করি।'
শুধু মুসলমান নয়, তৃণমূল সমর্থক হিন্দু ভোটারদের ক্ষেত্রেও একই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। ত্বহা বলেন, এখানে দেড়শোটি হিন্দু পরিবারকেও এসআইআর-এর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই পরিবারগুলি তৃণমূলকে ভোট দেন বলেই তাঁদের নামেও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ত্বহার কথায়, 'যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেবেন, তাঁদের এসআইআর-এর নোটিশ পাঠাও; এটা পুরোটাই চক্রান্ত।'
সংবাদদাতা: রাহি হালদার