SIR in West Bengal: অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে SIR শুনানিতে ১০৪ বছরের বৃদ্ধা, প্রশ্ন উঠছে কমিশনের নির্দেশ নিয়ে

তাহলে কমিশনের নির্দেশকে কি বুড়ো আঙুল দেখালেন এই বিএলও? ১০৪ বছরের এক বৃদ্ধার সশরীরে হিয়ারিংয়ে আসা নিয়ে এমনটাই মন্তব্য শোনা গিয়েছে তাঁর পরিবারের। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ রয়েছে ৮৫ বছরের উপরে বয়স্ক মানুষদের হিয়ারিং করতে হবে বাড়িতেই । এছাড়া গর্ভবতী মহিলা, অসুস্থদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ রয়েছে কমিশনের।

Advertisement
অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে SIR শুনানিতে ১০৪ বছরের বৃদ্ধা, প্রশ্ন উঠছে কমিশনের নির্দেশ নিয়েSIR শুনানিতে ১০৪ বছরের বৃদ্ধা
হাইলাইটস
  • ১০৪ বছরের বৃদ্ধাকে সশরীরে আসতে হল SIR-এর হিয়ারিংয়ে।

তাহলে কমিশনের নির্দেশকে কি বুড়ো আঙুল দেখালেন এই বিএলও? ১০৪ বছরের এক বৃদ্ধার সশরীরে হিয়ারিংয়ে আসা নিয়ে এমনটাই মন্তব্য শোনা গিয়েছে তাঁর পরিবারের। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ রয়েছে ৮৫ বছরের উপরে বয়স্ক মানুষদের হিয়ারিং করতে হবে বাড়িতেই । এছাড়া গর্ভবতী মহিলা, অসুস্থদের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ রয়েছে কমিশনের। অথচ ১০৪ বছরের বৃদ্ধাকে সশরীরে আসতে হল SIR-এর হিয়ারিংয়ে। বিএলও অবশ্য সাফাই দিচ্ছেন তিনি পরিবারকে বৃদ্ধার হিয়ারিং বাড়িতে হবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে বৃদ্ধা নিজেই আসতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে অবশ্য বৃদ্ধার পরিবারের বক্তব্য এমনটা জানানো হয়নি। 

বয়স দেখতে দেখতে একশোর কোঠা পেরিয়ে ১০৪-এ পৌঁছেছে। ব্রিটিশ অধীনস্ত দেশ থেকে স্বাধীন ভারত – সময়ের চাকায় অনেক কিছু দেখে ফেলেছেন স্বচক্ষে। দেখছেন আজকের এই পোড়া সময়কেও, দেখছেন রাজনীতির দুর্বিপাকে ডুবে থাকা স্বদেশকেও। আজ ১০৪ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধাকে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে অন্যের কাঁধে ভর করে যেতে হল শুনানিকেন্দ্রে। অশোকনগরের শিবানী বসু গলা তুলে বললেন, মনের জোর আছে, তাই এসেছি। কাজে এসেছি। যতক্ষণ লাগে, লাগুক। কাজ সেরে ফিরে যাব। শনিবার সকাল ন'টা থেকে অশোকনগর কল্যাণগড় বিদ্যামন্দির স্কুলে হিয়ারিংয়ে নোটিশ দিয়ে আসতে বলা হয় অশোকনগর কালিতলা এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা শিবানী বোসকে। বয়স্ক দেখে তাঁর হিয়ারিং বাড়িতে হতে পারে ভেবে সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বাড়িতে অপেক্ষা করার পরেও বিএলও বা কমিশনের কেউ আসছে না দেখে বাধ্য হয়ে হিয়ারিং সেন্টারে টোটো ভাড়া করে তাঁকে আসতে হয়েছে। অন্যথায় যদি বাতিল হয়ে যায় তাঁর হিয়ারিং।

সম্প্রতি হিয়ারিং কেন্দ্রে এসে অনেক বয়স্কদেরই অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে অশোকনগরের ২০৪ নম্বর পার্টির দায়িত্বে থাকা বিএলও দিপালী ঘোষ কিভাবে নিজের দায় এড়াতে পারেন! এ বিষয়ে অবশ্য দায়িত্বে থাকা ERO মুখ খুলতে চাননি। বৃদ্ধার পরিবার জানিয়েছেন ১৯৯৩ সালেও তাঁরা ভোট দিয়েছেন। পরে বিধানসভা ও ঠিকানা পরিবর্তন করার ফলে তাঁদের নাম বাদ গিয়েছিল। তবে প্রায় পনেরো বছর ধরে তাঁরা পুনরায় ভোটাধিকার পেয়ে ভোট দিচ্ছেন। এমনকি ভোটের সময় বৃদ্ধাকে বাড়িতে ভোটের ব্যবস্থাও করা হয়। যেভাবে একজন ১০৪ বছরের বয়স্ক বৃদ্ধাকে হিয়ারিংয়ে আসতে হলো সেক্ষেত্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নিতো? পরিবারকে এই প্রশ্ন করা হলে তাঁরা জানান তাই সরকারকেই নিতে হবে।

Advertisement

তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে যে বিএলও তাঁকে বাড়িতে হিয়ারিংয়ের ব্যবস্থা করাতে পারলেন না তাহলে তার কি ব্যবস্থা হবে! প্রশ্ন রয়েই যায়।

রিপোর্টারঃ দীপক দেবনাথ
 

POST A COMMENT
Advertisement