পশ্চমবঙ্গ SIR (ছবি: পিটিআই)২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগেই পশ্চিবঙ্গে হয়েছিল SIR। সেই সময় লক্ষ লক্ষ নাম ডিলিট হয়েছিল ভোটার লিস্ট থেকে। তবে বাদ যাওয়া নামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলগুলির প্রায় ৯৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভোটারদের জয় হয়েছে। তাঁদের নাম ফের ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
আসলে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় প্রচুর ভোটারের নাম বাদ যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোটাররা ট্রাইব্যুনালে আপিল করার সুযোগ পান। তারপরই বড় অংশের ভোটারদের নাম ফের তালিকায় জুড়ে গিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে কমিশন।
তারা সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালগুলি যে মোট মামলাগুলি নিষ্পত্তি করেছে, তার প্রায় ৯৩ শতাংশ রায়ই ভোটারদের দিকে গিয়েছে। এর ফলে ডিলিটেড ভোটারদের নাম নতুন করে আবার লিস্টে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলার SIR-এ প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া গিয়েছিল। এঁদের মধ্যে মধ্যে ৮২ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২২.২১ লক্ষ ভোটার নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। সেখানেই অধিকাংশ ভোটারের জয় হয়েছে। তাঁদের নাম জুড়ে গিয়েছে ভোটার লিস্টে।
যদিও কমিশন এটাও জানিয়েছে যে এখনও বিপুল সংখ্যক আপিল ঝুলে রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, নাম যোগ করা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে মোট ৩৮ লক্ষের বেশি আপিল জমা পড়েছে। এখনও ৩৭ লক্ষের বেশি আপিলের নিষ্পত্তি হয়নি।
১২ বছরের বেশি লাগবে সময়
এই বিষয়টা নিয়ে সরব হয়েছে কমিশন। তারা জানিয়েছে, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ট্রাইব্যুনালগুলিতে আপিলের শুনানি চলেছে। তারপর এখনও পর্যন্ত ১,২৬,১৯৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২৫,২৩৮টি মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে। বাকি রয়েছে ৩৭,০৫,২৩৫টি কেস।
আর এই গতিতে ট্রাইব্যুনালগুলি সপ্তাহের সাত দিন কাজ করলেও এই বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তিতে লাগতে পারে ১২ বছরেরও বেশি।
এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল তৈরির আবেদন করেছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের জন্য একটি করে ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব কমিশন দিয়েছে।
SIR নিয়ে ৩৮ লক্ষেরও বেশি আপিল
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, SIR-এর পর ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৩৮.৩১ লক্ষ আপিল জমা পড়েছে। ২২.২১ লক্ষ ভোটার নাম তালিকায় তোলার জন্য আপিল করেছেন। অপরদিকে ১৬.১০ লক্ষ আপিল করা হয়েছে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করে।