হাওড়ার শরৎ সদনের নতুন তারামণ্ডল।Howrah 3D Planetarium: এ রাজ্যের মানুষ এত দিন তারামণ্ডল মানেই কলকাতার ‘বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়াম’কেই চিনত। এ প্রজন্মের কিছু বাচ্চার কাছে অবশ্য সায়েন্স সিটির তারামণ্ডলও চেনা জায়গা। তবে এই শীতে ছুটিছাটার মরসুমে এই দু’টি তারামণ্ডলেই তেমন ভিড় নেই। অথচ, হাওড়ার শরৎ সদনের নতুন তারামণ্ডলে উপচে পড়ছে দর্শকের ভিড়! এটি নতুন তৈরি হয়েছে বলে নয়, এই তারামণ্ডলটি আগের দু’টি তারামণ্ডলের থেকে আলাদাও। কারণ, প্রায় ১৪ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি এই তারামণ্ডলটি দেশের প্রথম 3D তারামণ্ডল। ফলে এখানে মহাকাশ চেনার অভিজ্ঞতাও একেবারে আলাদা।
বিড়লা বা সায়েন্স সিটির তারামণ্ডল হল 2D। হাওড়ার শরৎ সদনের নতুন তারামণ্ডলে তাই 3D-তে মহাকাশ দেখতে ভিড় করছেন কাতারে কাতারে মানুষ। হাওড়া পুরসভা সূত্রে খবর, ২৫-২৬ ডিসেম্বর— শুধু এই দু’দিনেই ১,১৩,০০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর আর ১ জানুয়ারি এখানে দর্শকের ভিড় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। হাওড়া পুরসভার তৈরি এই তারামণ্ডলে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি— তিন ভাষাতেই এখানে শো চলছে।
ভিড়ের ঠেলায়, চাহিদার কথা মাথায় রেখে দিনে এখন চারটের বদলে ছ’টা শো চালানো হচ্ছে। ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে দিনে চারটে শো চালানো হতো, দুপুর ৩টে, বিকেল ৪টে, ৫টা আর ৫টা ৪৫ মিনিটে। ২৪ ডিসেম্বর থেকে দুপুর ২টো, ৩টে, বিকেল ৪টে, ৫টা, ৫টা ৪৫ মিনিট আর সন্ধে সাড়ে ৬টায়— মোট ছ’টি শো চালানো হচ্ছে। এছাড়াও প্রথমে প্রতি সপ্তাহে রবিবার তারামণ্ডল বন্ধ রাখা হতো। কিন্তু ভিড়, দর্শক সংখ্যা দেখে এখন মঙ্গলবার করে তারামণ্ডল বন্ধ রেখে রবিবার শো চালানো হচ্ছে। এতে ফলও মিলেছে হাতে নাতে। ছুটির দিনে ‘হাউজফুল’ হাওড়া তারামণ্ডলের সব শো। জানা গিয়েছে, গত ২ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে এখানে। বেশ কয়েকটি স্কুল থেকেও পড়ুয়াদের জন্য আগাম শো বুক করে রাখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশের প্রথম 3D তারামণ্ডলে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সাড়া মিলছে। তাই খুশি কর্তৃপক্ষ।