স্বামীজির ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন স্মরণে রেলের উদ্যোগ।-ফাইল ছবিস্বামী বিবেকানন্দের কলকাতা প্রত্যাবর্তন দিবসে, প্রতি বছর বিশেষ আয়োজন করে পূর্ব রেল। বজবজ থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত একটি বিশেষ ইএমইউ ট্রেন চালানো হয়, যার মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বিশ্বব্যাপী ভারতীয় ধর্ম ও দর্শনের প্রসারে তাঁর অবদানের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ ট্রেনটি স্বামীজির কলকাতায় প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে। এবং তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর জন্য চালানো হবে এবছরও।
১৮৯৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, পাশ্চাত্যে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তৃতার মাধ্যমে ভারতীয় দর্শনের জয়ধ্বনি তুলে দেশে ফেরেন স্বামীজি। মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) থেকে জাহাজে চড়ে তিনি বজবজে পৌঁছেছিলেন। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর জন্য জাহাজে প্রচুর নারকেল তোলা হয়েছিল, যদিও তিনি সহযাত্রীদের মধ্যেই তা বিলিয়ে দেন।
তাঁর কলকাতা আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দারভাঙ্গার মহারাজার নেতৃত্বে এক অভ্যর্থনা সমিতি গঠিত হয়। সিদ্ধান্ত হয়, বজবজ থেকে শিয়ালদা পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই অনুযায়ী, স্বামীজি অনুসারীদের নিয়ে বিশেষ ট্রেনে শিয়ালদায় পৌঁছন।
স্টেশনে প্রায় ২০ হাজার মানুষের ঢল নামে। সকাল সাড়ে সাতটায় ট্রেন ঢোকার ঘোষণা হতেই উল্লাসধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে চারদিক। ‘জয় রামকৃষ্ণ পরমহংস’ ও ‘জয় বিবেকানন্দ’ ধ্বনিতে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। তাঁকে ঘোড়ার গাড়িতে তোলা হলেও উচ্ছ্বসিত ছাত্ররা ঘোড়া খুলে নিজেরাই গাড়ি টেনে শহর জুড়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেন।
এই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর পূর্ব রেল বিশেষ ট্রেন চালায়। এ বছরও ১৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বজবজ থেকে একটি ইএমইউ বিশেষ ট্রেন ছাড়বে। এবং সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে শিয়ালদায় পৌঁছবে। পথে সমস্ত নির্ধারিত স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। পূর্ব রেলের এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বামী বিবেকানন্দের গৌরবময় প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে।