সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়ে বড় নির্দেশ। ফাইল ছবিরাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে নবান্ন। এবার তাঁদের ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য আলাদা ভাতা বা ‘ইউনিফর্ম স্টিচিং অ্যালাওয়েন্স’ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, এই সুবিধা পাবেন প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ড, যারা রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের অধীনে কর্মরত।
বর্তমানে সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের বছরে দু’টি ইউনিফর্ম তৈরির জন্য নির্দিষ্ট রঙের কাপড় সরবরাহ করা হয়। তবে সেই ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য আলাদা করে কোনও অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে অনেক সময় নিজের খরচেই ইউনিফর্ম তৈরি করতে হতো তাঁদের। এবার সেই সমস্যার সমাধান করতেই নতুন ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে রাজ্য সরকার অর্থ দফতরের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। জানা গিয়েছে, ইউনিফর্ম সেলাইয়ের জন্য কত টাকা দেওয়া হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ প্রতি ইউনিফর্মে ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের প্রস্তাব ছিল ৩০০ টাকা। সব দিক বিবেচনা করে জিএসটি-সহ ৫২০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর। অর্থ দফতরের অনুমোদন পেলেই এই ভাতা কার্যকর হতে পারে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এলাকায় বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৭১৪ জন সিভিক ভলান্টিয়ার কাজ করছেন। কলকাতা পুলিশের এলাকায় রয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জন হোমগার্ড রয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫৩৭ জন মহিলা হোমগার্ড। এই সমস্ত কর্মীরাই নতুন ভাতার আওতায় আসতে পারেন।
প্রশাসনিক সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইউনিফর্ম তৈরির জন্য কতটা কাপড় প্রয়োজন তা পুলিশ প্রশাসনের তরফে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী কাপড় সরবরাহ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের অধীন বিভিন্ন সংস্থা, যার মধ্যে তন্তুজর মতো সংস্থাও রয়েছে। পুলিশ সেই কাপড়ের গুণমান ও রং যাচাই করে। তবে এতদিন সেলাইয়ের খরচ না পাওয়ায় কর্মীদের নানা সমস্যায় পড়তে হত।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের অন্তর্বর্তী বাজেটে সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তার মধ্যেই ইউনিফর্ম সেলাই ভাতা চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে প্রশাসনিক মহল।