ভোট এলেই মনে পড়ে ! অন্য সময় কোথায় পথনাটক ?

পথনাটক (Street Theatre) বামপন্থী (Leftist) সংস্কৃতির অবদান। চারের দশকের মাঝামাঝি কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরে প্রথমে পানু পাল পথনাটকের বীজ পুঁতেছিলেন বলা যায়। পরে তা ডালপালা মেলে ধরেছিল উৎপল দত্ত (Utpal Dutta)-এর হাত ধরে। এখন কি সেই অস্ত্র শুধু ভোটের কাজে লাগে?

Advertisement
ভোট এলেই মনে পড়ে ! অন্য সময় কোথায় পথনাটক ?পথনাটক করতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সফদার হাশমি। ছবি সৌজন্য: টুইটার
হাইলাইটস
  • পথনাটক বামপন্থী সংস্কৃতির অবদান
  • এখন কি সেই অস্ত্র শুধু ভোটের কাজে লাগে?
  • এ নিয়ে ভিন্ন মত উঠে এল

পথনাটক (Street Theatre) বামপন্থী (Leftist) সংস্কৃতির অবদান। চারের দশকের মাঝামাঝি কমিউনিস্ট পার্টির হাত ধরে প্রথমে পানু পাল পথনাটকের বীজ পুঁতেছিলেন বলা যায়। পরে তা ডালপালা মেলে ধরেছিল উৎপল দত্ত (Utpal Dutta)-এর হাত ধরে। এখন কি সেই অস্ত্র শুধু ভোটের কাজে লাগে?

এ নিয়ে ভিন্ন মত উঠে এল। নাট্য জগতের সঙ্গে যুক্ত একাংশের বক্তব্য, পথনাটক এখন হয়ে গিয়েছে নির্বাচন-কেন্দ্রীক। ভোট এলেই তার কথা মনে পড়ে। তবে এ কথা মানতে চাননি অনেকে। তাঁদের মতে, বিভিন্ন দল সারা বছরই পথনাটক করে। আর করোনার ফলে শাপে বর হয়েছে যেন।

পথনাটকের যাত্রা
পথনাটক যে বামপন্থী সংস্কৃতির অবদান, সে কথা বোধহয় সবাই মেনে নেবেন। বিভিন্ন সময়ে তার বিবর্তন হয়েছে। পানু পালের হাত ধরে তার যাত্রা শুরু। তাকে তীক্ষ্ণ করেছেন উৎপল দত্ত। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ম্যাটাডোরের ডালা খুলে নাটক করা যায়, দেখিয়েছিলন তিনি। ঘটনা হল, পথনাটকের বিরোধিতাও করা হয়েছিল। অনেকের মত ছিল, নাটকের যে সৌকর্য, তা এখানে নেই। যদিও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। চেতনার 'মারীচ সংবাদ' তার অন্যতম উদাহরণ।

কারখানার গেটের বাইরে অনায়াসে পথনাটক করা যেত। সেগুলি লেখাও হত তেমন ভাবে। পথনাটকের তীব্রতা তৈরি হয়েছিল। আর তাই তার ওপর আক্রমণও নেমে আসত। নুতন শৈলী রপ্ত করেছিল পথনাটক। মঞ্চ উপকরণ, আলো ছাড়াই সেগুলি অভিনীত হত। মুখোশ, গানের ব্যবহার শুরু হয়েছিল।

এরপর ছয়ের দশকে জোছন দস্তিদার, সাতের দশকে বাদল সরকারের হাত ধরে এগিয়ে চলল। বাদল সরকারে হাত ধরে পথনাটক নতুন বাঁক নিল। তাঁরা পথনাটক বলতে চাইতেন না। তার বদলে অঙ্গননাট্য শব্দটি ব্যবহার করেন। প্রতিষ্ঠানবিরোধী যে ঝড়, তার রেশ রয়েছে সেখানেও।

'৭২ সালে সুরেন্দ্রনাথ পার্কে পথনাটক চলার সময় গুলি চলল। প্রতিবাদে নেমে পড়েন কেয়া চক্রবর্তী, অসিত বসুর মতো শিল্পীরা। যাঁরা সরাসরি পথনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। কয়েক বছর বাদে আবার আক্রমণ। এবার সফদার হাশমি (Safdar Hashmi)-র ওপর, ১৯৮৯ সালের ১ জানুয়ারি। পরের দিন, ২ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনা যেন আগুন ঘি ঢেলে দিল। জনপ্রিয়তা বাড়ল পথনাটকের।

Advertisement

তবে এ রাজ্যের ছবিটা খানিকটা বদলে গিয়েছিল। অনেকের মতে, নয়ের দশকে থেকে পথনাটক যেন নির্বাচনী নাটক হয়ে উঠেছে। ২০০০ সালের আশেপাশে নৃপেন্দ্র সাহা বহিরঙ্গন তৈরি করেছিলেন। মঞ্চ নাটকের বাইরের দল। উদ্দেশ্য, পথনাটককে জাগিয়ে রাখা। প্রতি শনিবার তাদের শো হত বাংলা আকাদেমির সামনে। কয়েক বছর চলেছিল। সেখানে জেলার অনেক নাটকের দল অংশ নেওয়া শুরু করল।

সারা বছরই
পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক-শিল্পী সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, শুধু নির্বাচনের সময় পথনাটক করা হয়, এমন মোটেই নয়। অনেক দল নিয়মিত পথনাটক করে। শ্যামল ভট্টাচার্যের 'শপথ', গড়িয়ার 'সুচর্চা', সৌরভ পালোধীদের দল নিয়মিত পথনাটক করে।এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম। কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে পথনাটক করা হয়েছে। ঠিক যেমন করা হয়েছিল শাহিনবাগের পাশে দাঁড়িয়ে, নয়া নাগরিকত্ব আন্দোলনের বিরোধিতার সময়। সাম্প্রতিক ধর্মঘটের উদ্দেশ্য মানুষের কাথে তুলে ধরতে ভরসা করা হয়েছিল পথনাটকের ওপর।

করোনার প্রভাব
বলা হচ্ছে, করোনা পথনাটককে নতুন দিশা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য শারীরিক দূরত্ববিধির কথা সবাই জানেন। কোনও মঞ্চে নাটক মঞ্চস্থ হলে দর্শক সংখ্যা নির্দিষ্ট রাখতে হবে। এখানে পথনাটকের মস্ত সুবিধা। তার জন্য জায়গা কোনও সমস্যা তৈরি করতে পারবে না। করোনাবিধি মেনে মঞ্চের থেকে বেশি দর্শকের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে। শ্যামল ভট্টাচার্যের 'শপথ' সাম্প্রতিক সময়ে এমনই পরিবেশনা উপহার দিয়েছিল।

POST A COMMENT
Advertisement