রক্তদান শিবিরে বিরাট দুর্নীতি (ছবি: পিক্সেলস)রক্তদান শিবিরে মেডিক্যাল অফিসার থাকতে হয়। তাঁদের তত্ত্বাবধানেই গোটা শিবিরটা চলে। আর তৃণমূল কংগ্রেস আমলে রক্তদান শিবিরে মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেই বিরাট অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে। দাবি, অনেক রক্তদান শিবিরে চিকিৎসকের পরিবর্তে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হয়েছে। তাদেরই ডাক্তার সাজিয়ে চালানো হতো ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প। আর এই গোটা চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন কিছু ছাত্রনেতা। বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন।
অভিযোগ, যেই সব পড়ুয়ারা এই ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পে যেত, তারা পেত মাত্র ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। তবে ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি দিত ১৫০০ টাকার মতো।
এখন প্রশ্ন হল, এই বাকি টাকাগুলো ঠিক যেত কোথায়? সূত্রের খবর, অনেক সময়ই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রনেতাদের পকেটেই ঢুকত এই বাড়তি টাকা। তারা কমিশন হিসেবে এই টাকা নিত।
ইতিমধ্যেই বিষয়টা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে স্বাস্থ্যভবনে। সেই মতো শুরু হয়েছে তদন্ত। কিছুদিন আগেই এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ছাত্রকে ডাকা হয় স্বাস্থ্যভবনে। সেই জিজ্ঞাসাবাদ চলার সময় জানা যায়, কলকাতার তিন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রনেতা পড়ুয়াদের মেডিক্যাল অফিসার সাজিয়ে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন। বদলে তারা কিছু কমিশন পেতেন।
তিনি মেডিক্যাল কলেজের দিকে নজর
ইতিমধ্যেই তদন্তে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস ও এসএসকেএম হাসপাতালের তিন ছাত্রনেতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করার কাজ চলছে।
বিষয়টা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামেদের আক্রমণ করেছেন মেডিভিশনের দক্ষিণবঙ্গের স্টেট কমিটির কনভেনর মানস বর্মণ। তিনি বলেন, 'রক্তদান নিয়ে বেশ কিছু বছর ধরেই দুর্নীতি শুরু হয়েছে। বিশেষত, তৃণমূল কংগ্রেস আমলে দুর্নীতি অনেকটাই বাড়ে। এই সময় কিছু তৃণমূল এবং বামপন্থী ছাত্রনেতারা, এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত। এক্ষেত্রে ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার এবং থার্ড ইয়ারের পড়ুয়াদের ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পে পাঠান হতো। ওই ছাত্ররা নিজেদের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিত। তার বদলে তারা কিছু টাকা পেত। সেই টাকাতেও চলত কাটমানি।'
এমতাবস্থায় মানস চাইছেন যাতে এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে শাস্তি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, আগামিদিনে পড়ুয়ারা যাতে এই সবের থেকে দূরে থাকে, সেটাও চাইছেন তিনি। এখন দেখার স্বাস্থ্যভবন ঠিক কত দ্রুত তদন্ত শেষ করে। এর বিরুদ্ধে তারা ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়।