Suhrawardy Avenue Rename Controversy: সুরাবর্দি নাম বদলে ক্ষুব্ধ ঋতব্রত, মুখ্যমন্ত্রী বললেন, 'পাঠান-মুঘলদের নাম রাখব না'

পার্ক সার্কাসের এই এলাকার নতুন নাম হয় 'গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড', গোপাল পাঁঠার নামে। এই নামকরণের বিরোধিতা না করলেও সমালোচনা করেছেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা। পাল্টা ঋতব্রতকে কমিউনিস্ট মনস্ক কথা বলে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, "এই কলকাতায় মোঘল, পাঠানের নামে কোনও নাম থাকবে না।"

Advertisement
সুরাবর্দি নাম বদলে ক্ষুব্ধ ঋতব্রত, মুখ্যমন্ত্রী বললেন, 'পাঠান-মুঘলদের নাম রাখব না'শুভেন্দু বনাম ঋতব্রত

সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদল নিয়ে সমালোচনা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পার্ক সার্কাসের এই এলাকার নতুন নাম হয় 'গোপাল মুখোপাধ্যায় রোড', গোপাল পাঁঠার নামে। এই নামকরণের বিরোধিতা না করলেও সমালোচনা করেছেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা। পাল্টা ঋতব্রতকে কমিউনিস্ট মনস্ক কথা বলে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, "এই কলকাতায় মোঘল, পাঠানের নামে কোনও নাম থাকবে না।"

বলেন, "বুচার অফ বেঙ্গল এই হুসেন সোহরাওয়ার্দিকে সমর্থনের প্রশ্ন ওঠে না। এই হাউসে দাঁড়িয়ে তিনি দু'হাতে সংশাতিতভাবে ১৯৪৬-র দাঙ্গার রক্ত যে তাঁর হাতে লেগেছিল তা এই হাউসে রেকর্ড রয়েছে। জ্যোতি বসু বলেছিলেন, এই বুচার অফ বেঙ্গলের হাতে অন্তত ২০ হাজার মানুষের হত্যা হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইতিহাসের বিকৃতি ঘটালে যে সমস্যা তৈরি হয় তাই হয়েছে। এই সোহরাওয়ার্দি ওই সোহরাওয়ার্দি নন। হাসান সোহরাওয়ার্দি। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। এই রাস্তার নাম হয়েছিল তাঁর বাবার নাম মৌলানা সোহরাওয়ার্দির নামে।"

সোহরাওয়ার্দি নাম বদল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু  বলেন, "আমিও যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করি তখন দেখলাম সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম। সোহরাওয়ার্দির নাম তো থাকবে না। যদি মনে করেন ড. এপিজে আব্দুল কালামের মতো প্রকৃত দেশ ও রাষ্ট্র ভক্তকে সম্মান দেওয়ার থাকে তথ্য দেব, মর্যাদা দেব।"

তাঁর আরও বক্তব্য, "আপনি বললেন অন্য সোহরাওয়ার্দি। সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন। পাঁচটা গুলি করেছিল যে স্বাধীনতা সংগ্রামী বীণা দাস। তাঁকে ব্রিটিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলারকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এই কলকাতাতে কোনও মোঘল, পাঠানের নাম থাকবে না। দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালির দাঙ্গা, অত্যাচারি ব্রিটিশ আর বিদেশি ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া অন্য কারও নাম রাখার পিছনে পাঁচবার ভাবতে হবে।" পাশাপাশি নামকরণের একটি কমিটি ঘোষণা করেন।

ঋতব্রতকে বিঁধে তাঁর আরও বার্তা, "আমাদের বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে মুছে দিতে পারেন না। পশ্চিমবঙ্গের দলনেতার মতো বক্তব্য ছিল না, কমিউনিস্টের মতো ছিল। আপনাদের থেকে উপদেশ নেব না।"

Advertisement

শুভেন্দু আরও বলেন, "বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্ন মুছেছে, অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি আক্রান্ত, শরৎ চন্দ্রের বাড়ি ভাঙা হয়েছে, বলেননি কেন? কারা অনুপ্রবেশকারী তা পরিষ্কার।"

প্রসঙ্গত, কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার রাস্তার নাম পরিবর্তন করে কলকাতা পুরনিগম। সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, প্রকৃত নায়কদের সম্মান জানানোর সময় এসেছে। এই মর্মে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গোপাল মুখোপাধ্যায়ের নাম দীর্ঘদিন ধরেই কলকাতার রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের অংশ। বিজেপির বক্তব্য, ১৯৪৬ সালের 'গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং'-এর সময় হিন্দুদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। কলেজ স্ট্রিট এলাকায় তাঁর পরিবারের পাঁঠার দোকান ছিল। সেই সূত্রেই তিনি 'গোপাল পাঁঠা' নামে পরিচিতি পান।

গত বছর 'গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং'-এ নিহতদের স্মরণে একটি পদযাত্রা করেছিল বিজেপি। তাতে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর হাতে ছিল গোপাল মুখোপাধ্যায়ের ছবি। পরে আলিপুরে তাঁর মূর্তি উন্মোচনও করা হয়। এ বার রাস্তার নাম পরিবর্তন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুই নাম বদল হিসাবে দেখলে ভুল হবে। এর মধ্যে এক রাজনৈতিক বার্তা জড়িয়ে রয়েছে। 

POST A COMMENT
Advertisement