সুমিত রায়কে গ্রেফতার করা যাবে?সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএ সুমিত রায়। এখনই তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তাঁর গ্রেফতারির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে সুমিতকেও তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
আজ বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে। জমি-দুর্নীতি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়েই এই মামলা করেছিলেন সুমিত।
আদালতে শুনানির সময় সুমিত রায়ের পক্ষে সওয়াল করেছেন সিনিয়র আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি আদালতকে জানান, আবেদনকারী (সুমিত রায়) তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। তদন্তে কোনও ধরনের অসহযোগিতা করা হবে না।
তবে প্রথম থেকেই সুমিতকে হেফাজতে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আইনজীবী। সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে বলেন, 'এই মামলায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ (কাস্টডিয়াল ইন্টারোগেশন) প্রয়োজন।'
তবে সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্যের জবাবে পাল্টা মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। তিনি বলেন, 'আশা করি আপনি বলতে চাইছেন না যে সমস্যা পুলিশের।'
এমন পরিস্থিতিতে আবার সরকারের অভিযোগ তুলে ধরেন তুষার মেহতা। তিনি বলেন, 'যখনই আমরা তাকে গ্রেফতার করতে গিয়েছি, তখনই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজেও সেই গ্রেফতারি রুখেছিলেন।'
এভাবেই সওয়াল জবাব চলতে থাকে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়। আদালত জানিয়ে দেয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়কে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তাঁর গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
ঠিক কী চলছে?
আসলে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি প্রতারণা থেকে শুরু করে ডেবরায় চাকরি প্রতারণা, একাধিক মামলায় পুলিশ খোঁজ করছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সুমিত রায়কে। অনেকবার তাঁর বাড়িতেও গিয়েছে পুলিশ। কিন্তু তাঁর খোঁজ মেলেনি। তিনি এখনও নিরুদ্দেশ। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেফতারি আটকাতে তিনি হাজির হয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। আদালত জানিয়ে দিল, এখনই গ্রেফতার করা যাবে না তাঁকে। সুমিতের গ্রেফতারির উপর অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত।