
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় খবর। কলকাতা হাইকোর্টের দেওয়া মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হলেও বিধায়ক পদ রয়েছে BJP দলের। আর সে কারণেই মুকুল রায়কে দলবদল বিরোধী আইনের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিধায়ক পদ খারিজ করে দেওয়া হয় সেই রায়তে। তবে হাইকোর্টের রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
কলকাতা হাই কোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুকুলের পুত্র তথা তৃণমূল নেতা শুভ্রাংশু রায়। তাঁর দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই স্থগিতাদেশ দিয়েছে। এই মামলায় বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অম্বিকা রায় এবং মুকুল রায়কে নোটিস জারি করা হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের হলফনামা জমা দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতা হাইকোর্ট মুকুল রায়কে বিধানসভার সদস্যপদ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করে। তিনি BJP-র টিকিটে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে জিতেছিলেন। তবে তারপর পদ্ম শিবির ত্যাগ করে তিনি জোড়াফুলের পতাকা ফের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। এই দলত্যাগের কারণেই কলকাত হাইকোর্ট ওই রায় দয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের রায় কার্যকর হচ্ছে না এবং বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতেই বিচারাধীন থাকছে।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ মুকুল রায় সক্রিয় রাজনীতি থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন। জানা গিয়েছে, তিনি ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন এবং শয্যাশায়ী। সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর একটি ছবি প্রকাশ্যে আসে। সেই ছবিটি তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ফেসবুকে শেয়ার করে লেখেন, 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও? আমি শুনতে পাচ্ছি মুকুলদা। তোমার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।'