সুপ্রিম কোর্টে টিএমসি নাম ও প্রতীকের শুনানি আজ (ছবি: পিটিআই)বিধানসভা ভোটের পরই দুই শিবিরে বিভক্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমন পরিস্থিতিতে জোড়া ফুল প্রতীক এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামটি ফ্রিজ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বৃহস্পতিবারই এই আবেদনের শুনানি হবে বলে জানা যাচ্ছে।
কারা শুনানি করবে?
কমিশনের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই আবেদন শুনবেন বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপকি ভি মোহনাকে নিয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ। কয়েক দিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের দ্রুত শুনানি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানান সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল।
সিব্বলের যুক্তি ছিল, নির্বাচন প্রক্রিয়ার ঠিক মাঝখানে টিএমসির নির্বাচনী প্রতীক ও লোগো ফ্রিজ করে ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। তিনি ব্যাঙ্গ করেন, নির্বাচন কমিশন প্রতিদিন নতুন নতুন নজির তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে মামলার দ্রুত শুনানিতে করার চেষ্টা হবে বলে জানায় সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতো আজ হবে শুনানি।
দুই পক্ষই নতুন প্রতীক ও লোগে নিয়ে লড়াইতে
পুজোর আগে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। আর সেই ভোটের আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের জন্য আলাদা প্রতীক এবং নাম ঠিক করে দিয়েছে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপধ্যায়ের দলের নাম মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের লোগো হল ফুটবল প্লেয়ার। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম এবং খাম চিহ্ন পেয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। আর এই দুই শিবির নতুন নির্বাচনী প্রতীক ও নাম নিয়েই লড়াইতে নামতে চলেছ।
এখন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের চোখ রয়েছে আজকের শুনানিতে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ কী হয়, তারা কোনও পরামর্শ বা নির্দেশ দেয় কি না, সেটার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে।
কী নিয়ে ঝামেলা?
আসলে বিধানসভা ভোটের পরই ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৬০ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন। তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন। অন্যদিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর শিবিরে হাজির কয়েকজন বিধায়ক। এমন পরিস্থিতিতে দুই শিবিরই জোড়াফুল প্রতীক ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামটি দাবি করে। এই অবস্থায় নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করে দেয় কমিশন। দুই শিবিরকেই নতুন নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়।
এরপরই বিজেপি সরকার এবং কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। এখন দেখার আজকে ঠিক কী বলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।