এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু।Suvendu Adhikari on PA Murder: 'পরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথার খুন।' হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এমনটাই বললেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মধ্যমগ্রামে শুভেন্দুর PA চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত ভিভা সিটি হাসপাতাল চত্বর। রাত ২টো নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বলেন, 'এটা যাতে আরজি কর নির্যাতিতার মতো বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা নেব'। একইসঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের শান্ত থাকার আবেদনও জানান।
শুভেন্দু বলেন, 'আমরা যারা রাজনৈতিক কর্মী, আমাদের এমন কর্মীরা থাকেন, যাঁরা আমাদের কাজটা করতে সাহায্য করেন। তাঁরা রাজনীতির সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয় নিয়ে আজ আমি এসেছি।'
টাচ করুন: গাড়ি দাঁড় করিয়ে গুলিতে ঝাঁঝরা, যেভাবে খুন শুভেন্দুর PA চন্দ্রনাথ
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপির প্রায় ২০ জন নির্বাচিত প্রার্থী হাসপাতালে এসেছেন বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, 'পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, সিসিটিভি থেকে ওঁরা কিছু ক্লু পেয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তিনি জানাননি। আমিও তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞেস করিনি। আমরা কোনও কনক্লুশনে আসব না।'
তবে এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হামলা বলে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, 'এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত, ঠাণ্ডা মাথার খুন। পুলিশ জানিয়েছে একটি ফলস নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে ফলো করেছে।'
একই সঙ্গে রাজ্যের বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন। শুভেন্দু বলেন, 'আমরা গোটা রাজ্যের বিজেপি কর্মী সমর্থকদের অনুরোধ করব, আপনারা কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। ২-৩ দিনের মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নেবে বিজেপি। এটা যাতে আরজি কর নির্যাতিতার মতো বিচারহীন না থাকে, তার ব্যবস্থা নেব।'
শুধু মধ্যমগ্রাম নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, 'আমরা এখানে থাকতে থাকতেই এখানে খড়দাতে বোমাতে একজন জখম, বসিরহাটে একজন গুলিবিদ্ধ। আমরা আবার রাজ্য প্রশাসনকে বলব। আর যেন কোনও মায়ের কোল খালি না হয়।'
যদিও সরাসরি কাউকে দায়ী করতে চাননি শুভেন্দু। তিনি বলেন, 'আমরা কোনও কনক্লুশনে আসছি না। আমরা মনে করি এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতেও পারে। কিন্তু পুলিশি তদন্তের স্বার্থে আমরা কোনও কনক্লুশনে আসছি না। আপনারাও আসবেন না।'
চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, 'আমাদের চন্দ্র ভাইয়ের দেহ কাল ময়নাতদন্তের পর স্থানীয় বিধায়করা ও পরিবারের হাতে হস্তান্তর করব। পরিবারের দায়িত্ব আমরা নেব। যে আহত হয়েছেন, তাঁর দায়িত্ব নেব।'
এই ঘটনার পরপরই এক্স পোস্টে সমবেদনা প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস। সে প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু বলেন, 'আমরা তৃণমূলের টুইটের উত্তর দেব না। আমরা রাজ্য পুলিশের ডিজির উপর ভরসা রাখব। রাজ্য পুলিশই ফাইনাল কনক্লুশনে এসে বলবে।'
এদিকে, বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষও তীব্র ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, 'তৃণমূল মানেই দুষ্কৃতী। আমাদের শান্ত থাকতেই হবে। যারা অরাজক, তারা অরাজকতা করবেই।'
অন্যদিকে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'আমি গত ৮ মাস ধরে বলে এসেছি, যে এই রাজ্য সরকার চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্যপাল, কমিশনকে। এটাই প্রত্যাশিত ছিল। আমি আগেই বলেছিলাম চারদিকে তৃণমূল তৃণমূলকে মারছে। আজ তৃণমূল কিছু করতে না পেরে শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে গুলি করল। আপনারা বলতেই পারেন, আপনি কীভাবে জানলেন যে তৃণমূল মেরেছে। কিন্তু মানুষ কি সেটা বুঝবে? যে বিরোধী দলনেতার উপর এতবার আক্রমণ হয়েছে, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার। এবার মানুষ শুনবেন। আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতি সব গ্রাস করে ফেলেছে। রাজনীতি সকলের জন্য নয়। এখন তো এটা দুষ্কৃতীদের রাজনীতি। এর থেকে দুর্ভাগ্যজনক কী হতে পারে? একজন প্রাক্তন এয়ারফোর্সের জওয়ান, তাঁর মা-ও আমাদের নেত্রী। এটা তো পরিকল্পিত খুন। বিরোধী দলনেতার আপ্ত সহায়ককে খুন মানে একটা বার্তা দেওয়া। এবার মানুষের রাস্তায় নামা উচিত। চারদিকে যেভাবে বিজেপির পতাকা ব্যবহার করে তৃণমূলেরই নেতারা একে অপরকে মারছে। সরকারকে আসতে দিন ক্ষমতায়, তারপর বিচার হবে।'
প্রসঙ্গত, বুধবার রাত ১১টা নাগাদ মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ দত্তের স্করপিয়ো গাড়ি আটকে খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। সূত্রের দাবি, তাঁর বুকে তিনটি এবং পেটের কাছে একটি গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হন গাড়ির চালকও। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।