তাঁর অভিযোগ, বাজেটে বেকারদের চাকরি বা কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই।মাস্টার ডিগ্রি, গ্র্যাজুয়েট, ITI পাশদের দৈনিক ৫০ টাকা ভাতার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের সমালোচনা করে এমনটাই বললেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এই প্রকল্প ও অন্তর্বর্তী বাজেট নিয়ে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বাজেটে বেকারদের চাকরি বা কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও উল্লেখ নেই। যুবসমাজের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু বলেন, এই অন্তর্বর্তী বাজেটে 'চাকরি' শব্দটিই নেই। তাঁর অভিযোগ, মাস্টার ডিগ্রি, গ্র্যাজুয়েট বা বেসিক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান নিয়ে কোনও পরিকল্পনাই নেই সরকারের। দশ লক্ষ শূন্যপদ পূরণের চেষ্টাও করা হয়নি বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট মাত্র চার মাসের জন্য এবং নির্বাচনকে সামনে রেখেই অল্প টাকা ট্রান্সফারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যুবসাথী প্রকল্প নিয়েও সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর কথায়, ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প করে আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত 'প্রতারণা'। তিনি বলেন, 'একটি গ্র্যাজুয়েট, এমএ বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ ছেলেমেয়েকে দৈনিক ৫০ টাকা দেওয়া কোনও সমাধান হতে পারে না।'
এর আগে যুবশ্রী প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু দাবি করেন, তখন ১৭ লক্ষ আবেদন পড়েছিল বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক লক্ষ মানুষকে সেই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেটিও বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ তাঁর।
রাজ্যের যুবসমাজের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইপ্যাকের রিপোর্টেও নাকি সেই জনরোষের কথা উঠে এসেছে। মানুষ তৃণমূলকে সরাতে মরিয়া বলেও দাবি করেন বিরোধী দলনেতা।
ক্যাম্পে আবেদন করার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন রাজ্যের সর্বত্র মাইক লাগিয়ে ক্যাম্প করা সমস্যার। দূরদূরান্ত থেকে আসতে গেলে মানুষের যাতায়াত খরচও হবে। তাঁর বক্তব্য, একটি বিধানসভায় একটি ক্যাম্প হলে বহু মানুষকে টোটো বা ট্রেকারে করে আসতে অন্তত ২০০ টাকা খরচ করতে হবে। খাবারের জন্য অতিরিক্ত খরচও হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে যাতায়াতে ২-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে বলে দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, এখন অধিকাংশ পরিষেবাই কেন্দ্রীয় সরকারের পোর্টালের মাধ্যমে হয়। আধার, জব কার্ড, প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা; সবই অনলাইনে সম্ভব। এমনকি ছোট দোকানেও কিউআর কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই জায়গায় যুবসাথীর আবেদন ক্যাম্পে গিয়ে করতে হওয়া অযৌক্তিক বলে মত তাঁর।
১৫ ফেব্রুয়ারি শিব চতুর্দশীর কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুদের উৎসবের কথা সরকারের মাথায় থাকে না। নির্বাচনী বিধি শীঘ্রই কার্যকর হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সেই পরিস্থিতিতে ভাতা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। যোগ্য বেকার ও চাকরিপ্রার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পের সামনে প্রতিবাদ করারও আহ্বান জানান বিরোধী দলনেতা।