অমিত শাহ-শুভেন্দু অধিকারীপশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে শাহ জানান, 'আমাকে ও মোহনচরণ মাঝিকে পর্যবেক্ষক করে বাংলায় পাঠায় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব প্রস্তাব ও সমর্থন এসেছে একজনের নামেই। তাই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে, আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে ঘোষণা করছি।'
বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, 'শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন।'
নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, "কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদীর ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।"
বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন প্রসঙ্গে শাহ বলেন, "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির— লক্ষ্য নিয়ে বাংলা চলবে। বাংলার বিজয় খুবই মাহাত্ম্যপূর্ণ। গঙ্গা থেকে গঙ্গোত্রিতে বিজেপির সরকার গঠিত হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিতে তাঁরই সরকার গঠিত হচ্ছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যেখানেই থাকুক মুক্ত মনে নরেন্দ্র মোদীকে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। ২০১৪ সাল থেকে যে যাত্রা বেরিয়েছে তা অভূতপূর্ব।"
দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব। এটা জেতার আরেকটা লক্ষ্য। ত্রিপুরা, অসমে আমাদের সরকার। রাষ্ট্রের সুরক্ষার মধ্যে
ভয়মুক্ত হয়ে ৯৩ শতাংশ ভোটদান হওয়ায় বাহবা জানান শাহ। কোনও মৃত্যু ছাড়াই দু'দফায় ভোট হওয়ায় বাংলার সব সরকারি কর্মচারী, নির্বাচন কমিশন এবং বাংলার পুলিশকে ধন্যবাদ জানান শাহ। ভবানীপুরের নাম উল্লেখ করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য, 'বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।' কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন।
এদিন নয়া মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেই শুভেন্দুকে মালা পরিয়ে জরিয়ে ধরে শুভেচ্ছা জানান শাহ। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিও।
কংগ্রেসকে বার্তা, 'তারা কেন বারবার হারছে তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা দরকার। রাহুল গান্ধী দায়িত্ব নেওয়ার পরই কংগ্রেসের হার।' বলেন, অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।
দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না।
সূত্রের খবর, বাংলায় উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন দু'জন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলা হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।
৯ মে ব্রিগেড ময়দানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।