শুভেন্দু অধিকারী ও অমিত শাহের কী দাবি?স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিল্লিতে এই বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের পর প্রথম বৈঠকেই ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে জমি হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে বাংলার সরকার। আর সেই কাজ ইতিমধ্যেই অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই বিএসএফ-কে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি দিয়েছে। সেই জমি পাওয়ার পর এলাকা এলাকায় রেকি শুরু হয়েছে। কিছু জায়গায় কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
আর এমন পরিস্থিতিতে আবার বৈঠকে বসলেন শাহ এবং শুভেন্দু। তাঁদের বৈঠকে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও জোরদার আলোচনা হয়েছে বলেই খবর।
মাথায় রাখতে হবে, গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপি বারবার দাবি করে এসেছে যে বাংলায় অবৈধ অনুপ্রবেশ চলছে। প্রচুর মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে বাংলায় প্রবেশ করছে। তাঁরা বাংলা এবং দেশের জনবিন্যাস বদলে বদলে দিচ্ছে (ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ)। এই সব অনুপ্রবেশকারীরা দেশের নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা। সেই কারণেই একাধিকবার তারা আগের তৃণমূল সরকারের কাছে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি চেয়েছে। কিন্তু বারবার অনুরোধের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার জমি দেয়নি বলে দাবি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তাই বিজেপির প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকার গঠন করলে তারা এই কাজকে অগ্রাধিকার দেবে। পাশাপাশি বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের তাদের দেশে পাঠাবে।
আর যেমন কথা তেমন কাজ। নতুন বিজেপি সরকার গঠন করার পরই জমি হস্তান্তরের বিষয়টা নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক থেকেই জমি দেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেন। সেখানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ।
এছাড়া বাংলায় বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের 'ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট' ফর্মুলাও চলছে। অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরে পুশ ব্যাক শুরু হয়েছে। আর এমন পরিস্থিতিতে আবার বৈঠকে বসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ এবং শুভেন্দু। এরপর বাংলার সরকার আর কোনও নতুন পদক্ষেপ নেয় কি না, সেই দিকেই চোখ রয়েছে সকলের।