শুভেন্দু অধিকারীনির্বাচনের দু'দিন আগে ভোটে লড়া থেকে পিছু হঠলেন তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণাও করেন তথাকথিত 'পুষ্পা'। ফলতার গড়ে রোড শো করে বিজেপির দাপট দেখালেন শুভেন্দু। সেখান থেকেই 'পুষ্পা' জাহাঙ্গিরকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক হাত নেন তিনি।
বলেন, "পুষ্পা বলেছিলেন ঝুঁকেগা নেহি। ভাইপোর ভরসায় লড়েছিলেন। তিনি এখন এমন ঝুঁকে পড়েছেন বলছেন 'আমি সরে গেলাম'। সরিয়ে তো আপনাকে দিতই মানুষ ২১ তারিখ। আপনি তো পোলিং এজেন্টই পেতেন না। গাছে তুলেছিলেন মাননীয় ভাইপো। ভাইপোবাবুর দেখা নেই। পুষ্পা আজ বলছে 'আমি পগারপার'। নির্বাচনে লড়ছেই না।"
ফলতাবাসীকে শুভেন্দুর আরও বার্তা, "আপনাদের বলব, এটা তৃণমূলের কৌশল, যাতে আপনারা ভাবেন জিতে তো গেছি ভোট না দিলেও চলবে। ১০ বছর পর ভোট দেওয়ার স্বাদ পেয়েছেন। ১০০ শতাংশ ভোট চাই। ৩ নম্বর বোতাম চিপে ভোট চাই। মুখ্যমন্ত্রী আসবে ২৪মের পর। হাতে কাজ দেবে, পেটে ভাত দেবে, মাথায় ছাদ দেবে। ফলতাকে নুতন করে দেবাংশুর নেতৃত্বে সাজিয়ে দেবো আমরা।"
আগামী ২১মে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। আজ মঙ্গলবারই শেষ প্রচার প্রার্থীদের। তার আগেই নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন জাহাঙ্গির খান। জাহাঙ্গির জানান, তিনি ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তির রক্ষার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তাই ফলতার উন্নয়নের জন্য ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ান। বলেন, 'আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতাকে বিশেষ প্যাকেজ দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমি চাই ফলতার উন্নয়ন হোক। শান্তি থাকুক। সোনার ফলতা তৈরি হোক। তাই আমি সরে দাঁড়িয়েছি। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ রাখতেও চাই না। আমি আজ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা আমার একার সিদ্ধান্ত।'
গত ২৯ এপ্রিল ফলতায় নির্বাচন ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বিঘ্নে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সেখানে পুলিশের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে। তাঁকে 'সিংঘম' বলেছিল সংবাদমাধ্যম। সেই পুলিশ আধিকারিক জাহাঙ্গিরকে পাড়ায় গিয়েও শাসানি দিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। তার পাল্টা নিজেকে 'পুষ্পা' বলেছিলেন জাহাঙ্গির। দাবি করেছিলেন, দিল্লির কোনও শক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।