বিনামূল্যে বাসে চেপে কেমন লাগছে মহিলাদের?সোমবার থেকে সরকারি বাসে উঠলে আর ভাড়া দিতে হচ্ছে না রাজ্যের মহিলাদের। BJP সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এদিন থেকেই চালু হয়ে গেলে এই নিয়ম। জলপাইগুড়ি থেকে যাদবপুর, স্কুল পড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী, সকলেই বিনামূল্য়ে বাসে উঠছেন। কী বলছেন তাঁরা? ভিডিও শেয়ার করে দেখালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এসি, নন-এসি কিংবা দূরপাল্লা, সব সরকারি বাসেই মহিলাদের টিকিট ফ্রি। এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি কিংবা দার্জিলিং থেকে কলকাতার যাদবপুর পর্যন্ত মহিলারা ফ্রি বাস পরিষেবা পেয়ে অত্যন্ত খুশি। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, 'পাহাড় থেকে সমতল মহিলারা পাচ্ছেন বিনামূল্যে যাতায়াতের সুফল। দেশের নারীশক্তির সশক্তিকরণে যশস্বী প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী জির স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে একধাপ এগোলো পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের মাতৃশক্তি ভয় নয়, ভরসার প্রতি ভরসা রেখেছেন।'
সকাল থেকেই কলকাতা ও বিভিন্ন জেলার নানা বাসস্ট্যান্ডে সরকারি বাসে চড়তে দেখা গিয়েছে মহিলাদের। স্ট্যান্ডে স্ট্যান্ডে সরকারি বাস ওঠার জন্য লম্বা লাইনও দেখা গিয়েছে।
কী কী সঙ্গে রাখলে মিলছে ফ্রি বাস পরিষেবা?
তবে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি শর্ত। এ ক্ষেত্রে সঙ্গে রাখতে হবে ভোটার কার্ড বা আধার কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, পেনশনের নথি, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিসের ইস্যু করা বৈধ পরিচয়পত্র, সরকারের দেওয়া ১০০ দিনের কাজের কার্ড, আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড। এগুলির যে কোনও একটা বাস কন্ডাক্টরকে দেখালেই মহিলা যাত্রীদের দেওয়া হচ্ছে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’। অর্থাৎ টিকিট কাটতেই হচ্ছে তাঁদের। তবে সেই টিকিটের মূল্য শূন্য।
পরিবহণ দফতরের গাইডলাইন
কলকাতা ও শহরতলি মিলিয়ে এসি ও নন এসি প্রায় ৬০০টি সরকারি বাস রাস্তায় নামানো হচ্ছে, এমনটাই খবর পরিবহণ দফতর সূত্রে। আগামী দিনে প্রত্যেক মহিলা যাত্রীকে একটি করে ডিজিটাল ‘স্মার্ট কার্ড’ দেওয়া হবে, যাতে থাকবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর নাম, ছবি এবং কিউআর কোড। এই কার্ডের জন্য নির্দিষ্ট আবেদনপত্র BDO বা SDO অফিসে জমা দিতে হবে। তবে স্মার্ট কার্ড পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে। ততদিন উল্লিখিত পরিচয়পত্রের যে কোনও একটি দেখিয়েই বিনামূল্যে যাত্রার সুযোগ মিলবে। মহিলাদের পোশাকের আড়ালে কেউ যাতে বাসে উঠে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে না-পারেন, তা নিশ্চিত করতেই কার্ডের ব্যবস্থা করবে সরকার।
রাজ্যে এই মুহূর্তে ২৩০০ সরকারি বাস সচল রয়েছে। কোন রুটে সরকারি বাস আরও বাড়াতে হবে, তার উপরে সমীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহণ দফতর। ইলেকট্রিক বাসের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। দাম বেশি হলেও দৈনন্দিন খরচ কম, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও দূষণের মোকাবিলায় ইলেকট্রিক বাসই হাতিয়ার বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কন্ডাক্টর এবং চালকদেরও এ ক্ষেত্রে আলাদা করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। কী ভাবে ‘জিরো ব্যালেন্স’-এর টিকিট তাঁরা মহিলা যাত্রীদের দেবেন, তা শেখানো হয়েছে।