মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীSuvendu Adhikari West Bengal CM: প্রতিশ্রুতিগুলি রক্ষা করবেন, মসনদে বসার আগেই মেজাজ বুঝিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার বাংলায় ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর প্রথম ভাষণেই প্রতিশ্রুতি রক্ষার আশ্বাস শুভেন্দুর। জানিয়ে দিলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খোলা হবে। প্রতিটি অত্যাচারের হিসাব হবে।” বুধবার পরিষদীয় দলের বৈঠকে অমিত শাহের উপস্থিতিতে সিলমোহর পড়েছে তাঁর নামে। কাল, ৯ মে ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। তার আগেই শুভেন্দু সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমি’ নয়, বিজেপি চলবে ‘আমরা’ নীতিতে।
মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হয়েই একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের কথা শুনিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর প্রধান প্রতিশ্রুতি, আরজি করের নৃশংস ঘটনা থেকে শুরু করে সন্দেশখালির মা-বোনেদের ওপর হওয়া সব অত্যাচারের তদন্তে বসবে বিশেষ কমিশন। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে হবে এই তদন্ত। শুধু তাই নয়, মহিলাদের ওপর হওয়া পুরনো সমস্ত অভিযোগের ফাইল ‘রি-ওপেন’ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, “অমিত শাহ দুটি কথা দিয়েছিলেন। এক, মহিলাদের ওপর অত্যাচারের বিচার হবে। দুই, দুর্নীতিগ্রস্তদের জেল হবে। সেই পথেই হাঁটব আমরা।”
আরজি করের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি রুখতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত হবে। গত কয়েক বছরে যাঁদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মিথ্যে মামলা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছে নতুন সরকার। দোষী সাব্যস্ত হলে সে আমলা হোক বা রাজনৈতিক নেতা, সরাসরি এফআইআর এবং শ্রীঘরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। শুভেন্দুর ইঙ্গিত, বিগত সরকারের আমলে প্রশাসনিক কর্তাদের ভূমিকাও এবার আতসকাঁচের তলায়।
শমীক ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে এবারের নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গিয়েছে পদ্ম-শিবির। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো আর নন্দীগ্রামে জয়, শুভেন্দুকে নিয়ে গিয়েছিল সাফল্যের শিখরে। অবশেষে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তাঁর কাঁধেই পড়ল রাজ্যের দায়িত্ব। আগামিকাল ব্রিগেডের মহামঞ্চে ইতিহাস গড়ে শুরু হবে বাংলার নতুন সরকার। রাজভবন নয়, শপথের জন্য ব্রিগেডকে বেছে নিয়ে বিজেপি বুঝিয়ে দিল, তারা শুরু থেকেই ‘জনগণের’ সরকার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে।