ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে তামান্নার মা, মেয়ের 'খুনি'-দের আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা?

ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন তামান্না খাতুনের মা সাবিনা। ছোট তমান্নার মৃত্যু হয়েছিল নদিয়ার কালীগঞ্জের উপনির্বাচনে তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমায়। মেয়ের মৃত্যুর পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সাবিনা। সে কারণেই আত্মহত্যার চেষ্টা?

Advertisement
ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে তামান্নার মা, মেয়ের 'খুনি'-দের আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা?তামান্নার মা সাবিনা
হাইলাইটস
  • ঘুমের ওষুধ খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন তমান্নার মা
  • তৃণমূলের বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া বোমায় মৃত্যু হয়েছিল তমান্নার
  • মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যার চেষ্টা?

সন্তান হারানোর শোক ভোলা কোনও মায়ের পক্ষেই সম্ভব নয়। ঠিক তেমনই চলতি বছর ২৩ জুন নদিয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন তৃণমূলের বিজয়োৎসব থেকে ছোড়া বোমায় মৃত তামান্না খাতুনের মা-ও নিজেকে এখনও সামলে উঠতে পারেননি। শোনা যাচ্ছে, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া তামান্না খাতুনের মা সাবিনা ইয়াসমিন অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলেন মঙ্গলবার। অনুমান, আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। 

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সাবিনা দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক চাপ, ভয় এবং হতাশায় ভুগছেন। মেয়ের মৃত্যুর পর আতঙ্কও গ্রাস করেছে তাঁকে। আর সেই কারণেই তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে তাঁর। 

উল্লেখ্য, কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী। তারপরই শুরু হয় বিজয় উৎসব। সেই বিজয় উৎসবের মিছিল থেকে ছোড়া বোমাতে প্রাণ হারান ছোট তামান্না। বাড়ির উঠোনেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় শিশুর। এই ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরিবারের দাবি মোট ২৪ জন অভিযুক্তের অনেকেই এখনও অধরা। 

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে তামান্নার 'খুনি'রা এখনও দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছে সমাজে। এমনকী যারা গ্রেফতার হয়েছিল, তারাও আদালতে জামিন পেয়ে গিয়েছে। এই কারণেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন তামান্নার মা। আত্মীয়দের আরও দাবি, অভিযুক্তদের তরফে সম্প্রতি লাগাতার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল সাবিনাকে। প্রতিদিন চিন্তা করতেন, মেয়ের খুনিরা শাস্তি পাবে তো আদৌ? নাকি আবার তাঁদের পরিবারের উপর হামলা হবে? এই তীব্র মানসিক চাপ থেকেই সাবিনা অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান আত্মীয়দেরও। 

তামান্নার কাকা রবিউল শেখ সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই দিদি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। অনেক অভিযুক্তই এখনও বাইরে ঘুরছে। যাদের ধরা হয়েছিল তারাও জামিনে বেরিয়ে এসেছে। আবার হামলা করতে পারে। এই ভয়েই আমাদের দিন কাটছে। এই চাপেই অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলে দিদি। দ্রুত বিচার করে দোষীদের শাস্তি না দিলে আমরা নিঃশ্বাস ফেলতে পারব না।'

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement