
টিনএজ প্রেগন্যান্সি বা কিশোরী বয়সে মাতৃত্ব দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার স্বাস্থ্য দফতরের দীর্ঘদিনের চিন্তার বিষয়। এই প্রবণতা কমাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সচেতনতা শিবির ও বিভিন্ন প্রচারমূলক কর্মসূচি চালিয়ে এলেও বিবাহিত নাবালিকাদের মধ্যে গর্ভধারণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে বিশেষ উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য দফতর। অভিযানের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয় বহু কিশোরী বধূকে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে অল্প বয়সে গর্ভধারণের সম্ভাব্য শারীরিক ঝুঁকি ও সমস্যার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পেরে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি গ্রহণ করতে আগ্রহ দেখান। ফলস্বরূপ, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ রোধ করতে প্রায় ২১ হাজার তরুণীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রণের ডোজ দেওয়া হয়েছে।
এই ইনজেকশনের নাম ‘অন্তরা’। প্রতি তিন মাস অন্তর একটি করে ইনজেকশন নিতে হয়। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এর ফলে কিশোরী বয়সে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে। পাশাপাশি, অল্প বয়সে কেউ মা হয়ে থাকলেও পরবর্তী সন্তানের মধ্যে পর্যাপ্ত ব্যবধান রাখতে এই ইনজেকশন কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে মা ও সন্তানের শারীরিক ঝুঁকিও অনেকটাই কমে।
স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে গত এক বছরে টিনএজ প্রেগন্যান্সির হার কিছুটা হলেও কমেছে। তবে সমস্যা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কয়েকটি ব্লকে এখনও বাল্যবিবাহ একটি বড় সমস্যা। বিশেষ করে ক্যানিং মহকুমায় এই প্রবণতা বেশি। ফলে অল্প বয়সেই অনেক মেয়ে মা হয়ে পড়ছে। স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রেই কিশোর-কিশোরীরা পালিয়ে বিয়ে করছে। আবার কোথাও কোথাও মেয়েদের উপযুক্ত বয়সের আগেই পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার সময় বহু কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। এই উদ্বেগ থেকেই গত বছর ‘অন্তরা’ ইনজেকশন ব্যবহারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়।