রথের পুণ্যতিথিতেই খুঁটিপুজো শুরু, এবারের পুজোয় ডাবল সপ্তমী! রইল নির্ঘণ্ট

এবারের পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ডবল সপ্তমী। পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, মহাসপ্তমী তিথি পরপর দু'দিন ধরে থাকবে। ফলে ভক্তদের কাছে এবারের সপ্তমীর তাৎপর্য আরও বাড়তে চলেছে।

Advertisement
রথের পুণ্যতিথিতেই খুঁটিপুজো শুরু, এবারের পুজোয় ডাবল সপ্তমী! রইল নির্ঘণ্টদুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন শুরু।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • রথযাত্রার চাকা গড়াতেই বাঙালির মনে বেজে ওঠে শারদীয়ার আগমনী সুর।
  • জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির কাছে এদিন থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজোর অপেক্ষা।

রথযাত্রার চাকা গড়াতেই বাঙালির মনে বেজে ওঠে শারদীয়ার আগমনী সুর। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মাসির বাড়ি যাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির কাছে এদিন থেকেই শুরু হয় দুর্গাপুজোর অপেক্ষা। রথের পুণ্যতিথিতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পুজো মণ্ডপে হয় খুঁটিপুজো। ঢাকের শব্দে, মন্ত্রোচ্চারণে এবং প্রস্তুতির ব্যস্ততায় শুরু হয়ে যায় শারদোৎসবের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন।

গত বছরের তুলনায় এবার দুর্গাপুজো কিছুটা দেরিতে। ২০২৫ সালে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহেই শুরু হয়েছিল শারদীয়া উৎসব। কিন্তু ২০২৬ সালে দুর্গাপুজো পড়েছে অক্টোবরের মাঝামাঝি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী ১০ অক্টোবর (শনিবার) মহালয়া বা সর্বপিতৃ অমাবস্যা। ওই দিনই পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচনা হবে দেবীপক্ষের। ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে বাঙালি মাতবে দেবী আবাহনের আবেগে। পরদিন ১১ অক্টোবর প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হবে শারদীয়া নবরাত্রি।

২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট

মহাষষ্ঠী: ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার)
মহাসপ্তমী: ১৭ ও ১৮ অক্টোবর (শনিবার ও রবিবার)
মহাষ্টমী: ১৯ অক্টোবর (সোমবার)
মহানবমী: ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার)
বিজয়া দশমী: ২১ অক্টোবর (বুধবার)

এবারের পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ডবল সপ্তমী। পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, মহাসপ্তমী তিথি পরপর দু'দিন ধরে থাকবে। ফলে ভক্তদের কাছে এবারের সপ্তমীর তাৎপর্য আরও বাড়তে চলেছে।

গজে আগমন, নৌকায় গমন
শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবী দুর্গার আগমন ও গমনের বাহন নির্ধারিত হয় তিথি ও বারের ভিত্তিতে। এবার মহাসপ্তমী রবিবার হওয়ায় দেবীর আগমন হবে গজে (হাতিতে)। শাস্ত্রে গজকে শুভ ও মঙ্গলসূচক বাহন হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, গজে আগমনের ফলে দেশে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকে।

অন্যদিকে, বিজয়া দশমী বুধবার হওয়ায় দেবীর গমন হবে নৌকায়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নৌকায় গমন শস্যবৃদ্ধি ও উর্বরতার ইঙ্গিত বহন করলেও, অতিবৃষ্টি বা প্লাবনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, রথযাত্রার রশিতে টান পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের অপেক্ষা। খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে এখন থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে শারদোৎসবের প্রস্তুতি।

Advertisement


 

POST A COMMENT
Advertisement