
দেড় মাস ধরে বাংলায় শীতের ইনিংস জারি রয়েছে। অনেকেই আশা করেছিলেন, এই ঠান্ডা আবহাওয়া আরও অন্তত এক মাস স্থায়ী হোক। কিন্তু আবহাওয়া দফতরের ইঙ্গিত বলছে, সেই আশা আর বেশি দিন পূরণ হচ্ছে না। আপাতত শীতের কামড় কিছুটা বজায় থাকলেও, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
কয়েক দিন আগেই আবহবিদরা জানিয়েছিলেন, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ফের ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নামতে পারে। পাশাপাশি পশ্চিমের একাধিক জেলায় রাতের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। অর্থাৎ, বিদায় নেওয়ার আগে শীত শেষবারের মতো জোরাল দাপট দেখাতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন রাজ্যজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আবহাওয়ায় বড় কোনও পরিবর্তন হবে না। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি থাকবে।
এই মুহূর্তে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নীচে রয়েছে। বহু জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আগামী দু’দিন হালকা উত্তুরে হাওয়া বইবে, যার ফলে ভোর ও সকালের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি বজায় থাকবে। তবে এই সময়ে তাপমাত্রায় বড়সড় ওঠানামার সম্ভাবনা নেই।
তবে বৃহস্পতিবার থেকেই ধীরে ধীরে আবহাওয়ার বদল শুরু হবে। ওই দিন থেকে টানা তিন দিন রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা অবশ্য স্বাভাবিকের কাছাকাছিই থাকবে। ফলে দুপুরে শীতের দাপট অনেকটাই কমলেও রাত ও ভোরে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ-দু’ধরনের তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের ঘরে ফিরবে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে শীতের আমেজ অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে। ১২ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
উত্তরবঙ্গেও বুধবারের পর থেকে রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে ভোরের দিকে হালকা কুয়াশা দেখা যেতে পারে, তবে এই মুহূর্তে ঘন কুয়াশা নিয়ে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শীত বিদায়ের সুর বেজে গিয়েছিল। এ বার এখনও পুরোপুরি সেই ছবি না ফিরলেও, আগাম গরম নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন আবহবিদরা। তার আগে শীতের এই শেষ পর্বটুকুই উপভোগ করতে চাইছেন রাজ্যবাসী।