ফাইল ছবি১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হলো ঐতিহাসিক ‘বন্দেমাতরম’ সঙ্গীতের মাধ্যমে। নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সংসদীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিন অধিবেশনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তাঁর মতে, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিধানসভার কার্য পরিচালনায় বিরোধীরাও সহযোগিতা করবেন।
অতীতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতাকে দীর্ঘদিন অধিবেশনের বাইরে রাখার ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিসরে হিংসা বা বিধানসভার কাজ ব্যাহত করার কোনও সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়। নবনির্বাচিত অধ্যক্ষের কাছে তিনি অনুরোধ করেন, বিরোধীদের বক্তব্য রাখার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা হোক।
বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোটের সময় ভরসার কথা বলা হলেও এখন মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে এবং বহু মানুষ ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন।
উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'কেউ ঘরছাড়া আছে বলে জানা নেই, যদি থাকে তাহলে ডিজির কাছে তালিকা দেবেন। তবে পরিস্কার শর্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়ানোর কোনও অভিযোগ না থাকে। তাহলে তাঁকে সসম্মানে এলাকার বিজেপি বিধায়ক এবং পুলিশ সুপার গিয়ে বাডিতে দিয়ে আসবে। আর যদি অভিযুক্ত হয়, তাহলে সরাসরি জেলে যেতে হবে'
তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে এবং স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ প্রশাসন তাঁদের নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে দেবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আসন পুনর্বিন্যাসের পর বিধানসভায় সদস্য সংখ্যা বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একটি আধুনিক ও বড় বিধানসভা ভবন তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
চতুর্থবারের বিধায়ক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী নবনির্বাচিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিতে হবে এবং বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।