ঋতব্রতর হাত ধরে বীরভূমের ব্যাটন ফের অনুব্রতের হাতে।জল্পনার অবসান। ঋতব্রততে গেলেন অনুব্রত। শনিবার 'বিদ্রোহী' TMC শিবিরে যোগ দিলেন কেষ্ট। কালবিলম্ব না করে অনুব্রতকে নতুন পদও দিয়েছে ঋতব্রত তৃণমূল। বীরভূম জেলার সভাপতি পদে তাঁকে নিযুক্ত করেছেন ঋতব্রত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ছায়াসঙ্গীর এই শিবির বদল যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।
একসময় জেল থেকে ফেরার পরও তাঁর ওপর থেকে বিশ্বাস হারাননি মমতা। সেই স্নেহের 'কেষ্ট'ই শেষ পর্যন্ত দুর্দিনে হাত ছেড়ে দিলেন নেত্রীর।
সূত্রের খবর, গত ২৪ ঘণ্টা ধরেই এই দলবদলের সলতে পাকানোর কাজ চলছিল। শুক্রবারই বিধানসভায় প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঋতব্রতর একান্তে বৈঠক হয়। রাজনৈতিক মহলের খবর, সেই বৈঠকের পরেই বিধানসভা থেকে ঋতব্রত শিবিরের এক প্রভাবশালী বিধায়ক সরাসরি ফোন করেছিলেন অনুব্রতকে। ফোনে ফোনেই কথা পাকা হয়ে যায় দুই নেতার।
'গলায় ব্যথা'ই কি সুর বদলের উপসর্গ?
ঘোষণার আগে থেকেই অবশ্য অনুব্রতের কথাবার্তায় সুর বদল টের পাওয়া যাচ্ছিল। সম্প্রতি নির্বাচনের পর থেকেই দলের একাংশের ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। কখনও তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল, 'কংগ্রেসকে চটানো মোটেও ঠিক হয়নি।' আবার কখনও আক্ষেপের সুরে ঘনিষ্ঠ মহলে বলতেন, 'সম্মান না পেলে আর দলই করব না।'
এমনকি শনিবার দলবদলের ঠিক আগের মুহূর্তেও যখন তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল, তখন শারীরিক অসুস্থতার দোহাই দিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছিলেন। ফোনে bangla.aajtak.in-কে বলেছিলেন, 'আমার গলায় খুব ব্যথা, আমি কথা বলতে পারছি না একদম। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তো আজকে নয়, অনেকদিন ধরেই যোগাযোগ রয়েছে। ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ আছে।' এর পরেই যখন প্রশ্ন করা হয় যে তিনি মমতার সঙ্গে আছেন কি না, তখন কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, 'গলায় খুব ব্যথা করছে বলতে পারছি না। জ্বরে মরছি আমি।'
অনুব্রত মণ্ডল বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্ধ অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সেই স্নেহধন্য অনুব্রতই এবার দিদির পাশ থেকে সরে গেলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেষ্টর এই দলবদল বীরভূম জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ উল্টে দিতে পারে। কেষ্টহীন বীরভূমে 'মমতা তৃণমূলে'র নতুন করে লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে। আগামিদিনে রাঙামাটির জেলার রাজনীতি কোন পথে এগোবে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।