অখিল গিরি ও শুভেন্দু অধিকারী (বামদিক থেকে)রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (Draupadi Murmu) নিয়ে তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরির করা মন্তব্যকে (Akhil Giri Comment) ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে অভিযোগ। অখিল গিরির মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে খোদ তাঁর নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকী দলের তরফে অখিলের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। অখিল গিরিকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবিতে এখনও সরব বিজেপি। এমনকী দেশের সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য তাঁকে গ্রেফতারেরও দাবি তুলেছেন কেউ কেউ।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে পড়তে পারে প্রভাব
এই পরিস্থিতিতে কোনও কোনওমহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন শুধুমাত্র অখিল গিরির মন্তব্যের সমালোচনা করেই থেমে গেল তৃণমূল? কেন তাঁর বিরুদ্ধে দল ও সরকারের তরফ থেকে কোনও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হল না? এক্ষেত্রে রাজনৈতিকমহলের একটা অংশ মনে করছে, সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। আর পূর্ব মেদিনীপুর এমনিতেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গড়। সেখানে শুভেন্দু তথা অধিকারী পরিবারের কট্টর বিরোধী বলেই পরিচিত অখিল গিরি। সেক্ষেত্রে এখনই যদি অখিলের বিরুদ্ধে কঠোর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে তার প্রভাব পড়তে পারে পঞ্চায়েত ভোটে। কারণ দলের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে অখিল যদি কোনও কারণে ব্যাকফুটে চলে যান, তাহলে পঞ্চায়েত ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে খোলা ময়দান পেয়ে যেতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেটাই হয়ত হতে দিতে চাইছে না তৃণমূল (TMC)।
চাপের মুখে পিছু হঠার দাবি
এছাড়া কোনও কোনও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি ক্রমাগত প্রতিবাদের মুখে পড়ে অখিল গিরির বিরুদ্ধে এখন কড়া অবস্থান নেয় তৃণমূল, তাহলে সেটাও হয়ে উঠতে পারে বিরোধীদের অস্ত্র। কারণ সেক্ষেত্রে বিজেপি (BJP) তথা অন্যান্য বিরোধীরা দাবি করতে পারে, তাদের চাপের মুখে পড়েই পিছু হঠতে ও অখিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হল রাজ্যের শাসকদল। আর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সেটাও যে তৃণমূলের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না, তা বলাই বাহুল্য।