সৌগত রায়তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল প্রতীক কি হাতছাড়া হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে গিয়েছে, তাতে দলের প্রতীক রাখা নিয়েও চর্চা তুঙ্গে। চলতি মাসের শুরুতেই বিদ্রোহী বিধায়করা স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁরাই আসল তৃণমূল। ইতিমধ্যে বিধানসভায় সংখ্যার বিচারে বিরোধী দলনেতার পদ পেয়ে গিয়েছেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের প্রতীক ইস্যুতে সৌগত রায় কী বলছেন?
দলের প্রতীক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দাবি করলেন, এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তাঁর কথায়, 'দলের প্রতীকের ব্যাপারে লোকসভার স্পিকারের কোনও কিছু বলার নেই। এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন, সিম্বল রিজার্ভেশন অর্ডার ১৯৬৮-এর আন্ডারে।' তাহলে কি প্রতীকের ব্যাপার আপনার দল নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবে? সৌগতর বক্তব্য, ' আমাদের পার্টি কমিশনে যাবে না। কারণ ইতিমধ্যেই ওই প্রতীকটি আমাদের দলেরই। অন্য কেউ যদি তা চ্যালেঞ্জ করে, তাহলে তাদের নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে।'
#WATCH | Kolkata, West Bengal | On TMC vs rebel MPs, TMC MP Saugata Roy says, “How it will pan out is not clear now. As per the law, the speaker will have no say on the matter of the symbol. The symbol matter will have to be decided by the Election Commission… So that thing has… pic.twitter.com/idoKLkQ3Ol
— ANI (@ANI) June 19, 2026
বিধানসভায় পৃথক বসার ব্যবস্থা
বিধানসভায় অধিবেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার বাজেট পেশ করবে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিধায়করা ও অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা বিদ্রোহী বিধায়কদের আলাদা করে বসানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বিধানসভায়। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে তৃণমূলের প্রতীক জোড়াফুলও ওই শিবিরের দিকেই যাবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারতি দেবাশিস কর গুপ্ত বলেন, 'যে কোনও সংসদীয় দলের দুটো ভাগ, একটা আইনসভা ও আরেক সংগঠন। প্রথমটিতে রয়েছেন বিধায়ক, সাংসদরা। দ্বিতীয়টিতে যাঁরা সাংগঠনিক কাজে যুক্ত তাঁরা। এখন নির্বাচন কমিশন প্রতীক তাঁদেরকেই দেবে, যাঁদের দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে।'
ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেখা গেছে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ভেঙে একনাথ শিন্ডে ও উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে দুটি আলাদা দল গঠিত হয়েছে। একনাথ শিন্ডের দল সমর্থন দিয়েছিল বিজেপিকে এবং তারা মহারাষ্ট্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক দল। অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরে বিজেপি বিরোধী এবং বর্তমানে ইন্ডিয়া জোটের সদস্য। 'সিম্বলস অর্ডার ১৯৬৮' - এর ১৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আছে প্রতীকের যৌক্তিক দাবিদার বেছে নেওয়ার।