শুভেন্দু অধিকারীক্ষমতায় আসার আগেই দুর্নীতি দমনে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। আর যেমন কথা, তেমন কাজ। পশ্চিমবঙ্গের কুর্সিতে বসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর শুধু ঘোষণা নয়, তার যে বাস্তব প্রতিফলনও ঘটছে, সেই উদাহরণও জনগণের সামনে তুলে ধরলেন তিনি।
আজ সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দুর্নীতি বিরোধী নীতির কথা আরও একবার তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রশাসন, দফতর বা সরকারের যে কোনও স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি মেনে চলে। কোনও অবস্থাতেই দুর্নীতি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে চায় সরকার।"
এরপর এই সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অ্যাকশন নেওয়া শুরু করেছে, তেমনই একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তিনি এক্স-এ লেখেন, 'অভিযোগ অনুযায়ী, JH09BA3535 নম্বরের একটি ট্রাক (মালিক: দীপক সিং, চালক: শিবা যাদব) সার্ভিসিং শেষে গ্যারাজ থেকে ফিরছিল। সেই সময় পথে পশ্চিম বর্ধমানের রামপুর চেকপোস্টে কর্তব্যরত কয়েকজন আধিকারিক বেআইনিভাবে ট্রাকটি আটকান।
অভিযোগ, চালককে বেআইনিভাবে হয়রানি করা হয়। তাঁকে ঘুষ দিতে চাপ দেওয়া হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় ট্রাকটি আটক করা হয়। ট্যাক্স বাবদ ২২ হাজার টাকা দাবি করা হয়।'
এই অভিযোগের বিরুদ্ধে যে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই বিষয়টা সম্পর্কেও জানান শুভেন্দু। তিনি লেখেন, 'তোলাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবহণ দফতর দ্রুত এবং কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।
রামপুর চেকপোস্টে কর্মরত দুই মোটর ভেহিকল ইন্সপেক্টর নাজিমুল হক এবং অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়কে পশ্চিমবঙ্গ সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড অ্যাপিল) রুলস, ১৯৭১-এর রুল ৭(১)(এ) অনুযায়ী দ্রুত সাসপেন্ড করা হয়েছে।'
পাশাপাশি তিনি জানান, এই গোটা ঘটনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই ঘটনার ফৌজদারি তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য অভিযোগটি অ্যান্টিকরাপশন ব্যুরোর কাছে পাঠানো হয়েছে।
এখানেই শেষ না করে তিনি দাবি করেন, বেআইনিভাবে আটক করা গাড়ি দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবহণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি রুখতে কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
দুনীর্তিকারীদের কড়া বার্তা
নিজের বক্তব্যের একদম শেষে এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আবার কড়া বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি লেখেন, 'প্রশাসনের যে কোনও স্তরে দুর্নীতি, হয়রানি বা বেআইনি টাকা আদায়ের সঙ্গে কোনও সরকারি কর্মী জড়িত থাকলে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' অর্থাৎ বার্তা স্পষ্ট, কোনও অবস্থাতেই দুর্নীতি করা চলবে না। এমনটা করলেই ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।