Farakka BDO office: ফারাক্কায় তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতিতে বিডিও অফিসে ভাঙচুর, SIR বিতর্কে উত্তপ্ত এলাকা

বিএলওদের আরও দাবি, গোটা প্রক্রিয়ার দায় কার্যত তাঁদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক বিএলও প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই আতঙ্কে ভুগছেন বলে জানান।

Advertisement
ফারাক্কায় তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতিতে বিডিও অফিসে ভাঙচুর, SIR বিতর্কে উত্তপ্ত এলাকাফারাক্কায় তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতিতে বিডিও অফিসে ভাঙচুর।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বর।
  • পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে যে হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষ ও বিএলওদের হেনস্থার অভিযোগকে ঘিরে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বর। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে যে হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতেই এই বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিধায়ক বা বিডিও-র পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিন ফরাক্কা বিডিও অফিস চত্বরে সমস্ত বিএলও একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র ইআরও-র হাতে তুলে দেন। বিএলওদের স্পষ্ট বক্তব্য, তাঁরা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছেন না, আপত্তি রয়েছে এই প্রক্রিয়া কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে। তাঁদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত নির্দেশ মেনে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে অ্যাপে আপলোড করার পরেও বারবার নতুন নথি চাওয়া হচ্ছে এবং একাধিকবার সংশোধনের নির্দেশ আসছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার ডাকা হচ্ছে, যা কার্যত হেনস্থার শামিল।

বিএলওদের আরও দাবি, গোটা প্রক্রিয়ার দায় কার্যত তাঁদের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অনিশ্চয়তার কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। মানসিক চাপ এতটাই বেড়েছে যে অনেক বিএলও প্রতিদিন সরকার প্রদত্ত অ্যাপ খুলতেই আতঙ্কে ভুগছেন বলে জানান।

বিএলওদের আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বিডিও অফিস চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন। অফিসের গেট অবরুদ্ধ করে অবিলম্বে এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে স্লোগান ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম ও দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। উত্তেজনা সামাল দিতে হেয়ারিং-এর কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হেয়ারিং ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা কার্যত থমথমে হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার জেরে ফরাক্কা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement