প্রতীকী ছবিএকবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে কাপড়ের ব্যাগ বিক্রির স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিন বসানো হবে। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও কেউ যদি নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
বর্ষার আগে শহরের খাল ও নিকাশি ব্যবস্থার প্রস্তুতি পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী জানান, প্লাস্টিক দূষণ এবং জলনিকাশির সমস্যা একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কলকাতা পুরসভার মতে, নর্দমার গলি-মুখ, ম্যানহোল এবং পাম্পিং স্টেশনের যন্ত্রাংশে প্লাস্টিকের ব্যাগ জমে যাওয়ার কারণেই বৃষ্টির জল দ্রুত নামতে পারে না। অনেক সময় পাম্পের মোটরও বিকল হয়ে পড়ে।
২০২২ সালের জুলাই মাসে রাজ্যজুড়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তবে এখনও বাজারের সর্বত্রই এই ধরনের ব্যাগের ব্যবহার চলছে। মুদি দোকান, দুধের বুথ, মাছ-মাংসের বাজার, ফল ও সবজির দোকান, প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার হতে দেখা যায়।
মন্ত্রী বলেন, 'আমরা বিভিন্ন বাজারে কাপড়ের ব্যাগের ভেন্ডিং মেশিন বসানোর কাজ শুরু করছি। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। মেশিন চালু হয়ে গেলে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে।'
তিনি সাধারণ মানুষকে যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলার আবেদনও জানান। তাঁর কথায়, এই প্লাস্টিকই শেষ পর্যন্ত নর্দমা ও ড্রেন বন্ধ করে জলাবদ্ধতার সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২০ মাইক্রনের কম পুরুত্বের প্লাস্টিক সাধারণত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক হিসেবে চিহ্নিত হয়। পুনর্ব্যবহারের বাজারে এসব প্লাস্টিকের প্রায় কোনও মূল্য নেই। ফলে এগুলো পরিবেশে বছরের পর বছর পড়ে থেকে ধীরে ধীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকে পরিণত হয় এবং মাটি ও জলাশয় দূষিত করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন বাতাস, জল, মাটি, খাদ্য ও পানীয়, সব ক্ষেত্রেই শনাক্ত হচ্ছে। ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত এর সংস্পর্শে আসছেন।
বর্জ্য পৃথকীকরণেও কড়া বার্তা
প্লাস্টিকের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে যেসব পরিবার শুকনো ও ভেজা বর্জ্য আলাদা করে রাখতে ব্যর্থ হবে, তাদের বাড়ি থেকে পুরসভার বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, 'অনেক শহরে ছয় ধরনের বর্জ্য আলাদা করতে হয়। আমরা শুধু শুকনো ও ভেজা, এই দুই ভাগে বর্জ্য আলাদা করার অনুরোধ করছি।'
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উদ্যোগের গতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। বর্তমানে বহু কম্প্যাক্টর স্টেশন ও বর্জ্যবাহী গাড়িতে শুকনো ও ভেজা আবর্জনা একসঙ্গেই ফেলা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের আশা, প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য পৃথকীকরণ, দুই ক্ষেত্রেই কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে শহরের পরিবেশ ও নিকাশি ব্যবস্থা আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।