VHP on Cow Protection: বাংলায় এ বার গোরক্ষা বাহিনী, জোর তত্‍পরতা শুরু VHP-র, বছরের শুরুতেই বড় প্ল্যান

ভারতের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি গোরক্ষা সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বের এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
বাংলায় এ বার গোরক্ষা বাহিনী, জোর তত্‍পরতা শুরু VHP-র, বছরের শুরুতেই বড় প্ল্যানপশ্চিমবঙ্গে গোরক্ষা নিয়ে বিশ্বহিন্দু পরিষদের মিটিং
হাইলাইটস
  • দিল্লিতে বৈঠক, বাংলায় যৌথ কর্মসূচির পরিকল্পনা
  • বৈঠকে সংখ্যালঘু সেলের নেতৃত্বও
  • মকর সংক্রান্তির আগে কলকাতায় মহাধর্ম সম্মেলন

রাজ্যে পালাবদলের পর গরু পাচার ও গোহত্যার ঘটনা কমেছে বলে দাবি বিভিন্ন মহলের। তবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় এসইউভিতে করে গরু পাচারের চেষ্টার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলায় গরু পাচার ও গোহত্যা প্রতিরোধে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা করছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেই লক্ষ্যেই দিল্লিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ কর্মশালা। রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনী গোসেবা সঙ্ঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভিএইচপি সভাপতি অলোক কুমার। বৈঠকের পর থেকেই রাজ্যে গোরক্ষা কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে তৎপরতার ইঙ্গিত মিলছে।

দিল্লিতে বৈঠক, বাংলায় যৌথ কর্মসূচির পরিকল্পনা

ভারতের অন্যতম বৃহৎ হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের একটি গোরক্ষা সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বের এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সূত্রের খবর, বাংলায় গরু পাচার ও গোহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যৌথ গোসেবা কর্মসূচি শুরু হতে পারে। পাশাপাশি গোশালাগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং গোরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচির উপর জোর দেওয়া হতে পারে। তবে এই কর্মসূচিগুলির দিনক্ষণ এবং বিস্তারিত রূপরেখা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সূত্রের দাবি, প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ হলেই জেলাস্তরে সংগঠনের কাজ শুরু হবে।

বৈঠকে সংখ্যালঘু সেলের নেতৃত্বও

দিল্লির ওই বৈঠকে রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনী গোসেবা সঙ্ঘের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বাবান ঘোষ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সংগঠনের জাতীয় সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি ইকবাল ত্যাগী, পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক বিক্রম ঘোষ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ দে এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সভাপতি স্বামী ঈশ্বরানন্দ প্রভুজি মহারাজ। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি রিজওয়ান আনসারিও বৈঠকে যোগ দেন।

Advertisement

বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতৃত্বদের সম্মানিত করা হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘গোমাতা স্মারক’ পুরস্কার। সংখ্যালঘু সেলের নেতৃত্বের উপস্থিতিও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গোরক্ষা ও গরু পাচার প্রতিরোধের বিষয়টিকে কোনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে সংগঠন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে গোসেবা ও গোরক্ষা নিয়ে সচেতনতা তৈরির বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।

মকর সংক্রান্তির আগে কলকাতায় মহাধর্ম সম্মেলন

এদিকে আগামী বছরের শুরুতে মকর সংক্রান্তির আগে কলকাতায় একটি মহাধর্ম সম্মেলনের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ঈশ্বর ট্রাস্ট এবং রাষ্ট্রীয় গোরক্ষা বাহিনী ও গোসেবা সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার উদ্যোগে এই সম্মেলন হওয়ার কথা। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সভাপতি অলোক কুমারের।

রাজ্যে সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং গোরক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সম্মেলনের দিনক্ষণ, স্থান এবং অন্যান্য আয়োজন সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা এখনও বাকি।
 

POST A COMMENT
Advertisement