
পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে বড়সড় আইনি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC) রাজ্য সরকারের পাঠানো সংক্ষিপ্ত তালিকা বা প্যানেল ফেরত পাঠিয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, এই প্রস্তাব জমা দিতে হয়েছে নজিরবিহীন বিলম্বে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেই।
বর্তমানে রাজ্যে কোনও স্থায়ী ডিজিপি নেই। রাজীব কুমার ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬। তাঁর অবসরের আগেই উত্তরসূরি নিয়োগের যে উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার, তা আপাতত UPSC-র সিদ্ধান্তে থমকে গেল।
রাজ্যের মুখ্য সচিবকে পাঠানো চিঠিতে UPSC স্পষ্ট জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগের স্থায়ী ডিজিপি মনোজ মালব্যের অবসর গ্রহণের অন্তত তিন মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের আগেই, তিনজন সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকের নামের প্যানেল পাঠানো উচিত ছিল। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি। তার পরিবর্তে রাজ্য সরকার রাজীব কুমারকে ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি হিসেবে নিয়োগ করে এবং প্রায় দেড় বছর পরে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে UPSC-র কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়।
UPSC জানিয়েছে, প্রায় ১৮ মাসের এই ‘অতিরিক্ত বিলম্ব’ আইনি অসঙ্গতি তৈরি করছে। পাশাপাশি, এর ফলে অন্যান্য যোগ্য ও সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকেরা শীর্ষ পদে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, জুলাই ২০২৫-এ পাঠানো তালিকায় থাকা রাজীব কুমার ও রাজেশ কুমার-সহ কয়েকজন আধিকারিকের চাকরির মেয়াদ ছয় মাসেরও কম বাকি। সুপ্রিম কোর্ট ও UPSC নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থায়ী ডিজিপি হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের কার্যকাল থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে তাঁরা সেই মানদণ্ডে অযোগ্য।
এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়া টুডে-কে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ড. নজরুল ইসলাম বলেন, 'রাজ্য সরকার রাজীব কুমারকে ডিজিপি হিসেবে বসানোর ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙেছে। নির্ধারিত প্রোটোকল মানা উচিত ছিল। এই ধরনের সিদ্ধান্ত সবসময় রাজ্যের স্বার্থের ক্ষতি করে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির দায় রাজ্য সরকারেরই।'
সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের অক্টোবরে এই অচলাবস্থা কাটাতে একটি বৈঠক হলেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। এরপর UPSC ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আইনি মতামত চায়। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এত দীর্ঘ বিলম্বকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষমতা UPSC-র নেই। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিকার বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টেরই রয়েছে।