রাজ্যে ধুঁকতে থাকা বাসশিল্প আর পরিবেশ— দুটোকেই বাঁচাতে এবার কমপ্রেস্ড ন্যাচারাল গ্যাসের ‘দাওয়াই’ দিল রাজ্য সরকার।অগ্নিমূল্য ডিজেল। তার উপর যাত্রীসংখ্যা আগের মতো নেই। লোকশানের ধাক্কায় সরকারি নির্দেশের পরেও রাস্তায় বাস নামাতে পারছেন না রাজ্যের বেসরকারি বাস মালিকরা। সেই জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন তাঁরা। রাজ্যে ধুঁকতে থাকা বাসশিল্প আর পরিবেশ— দুটোকেই বাঁচাতে এবার কমপ্রেস্ড ন্যাচারাল গ্যাসের ‘দাওয়াই’ দিল রাজ্য সরকার।
বাসের ডিজেল ইঞ্জিন বদলে কমপ্রেস্ড ন্যাচারাল গ্যাসের (CNG) ইঞ্জিন বসিয়ে নিলেই মোট খরচের সিংহ ভাগ ভর্তুকি হিসাবে করবে রাজ্য সরকার। বাকিটুকু দিতে হবে বাস মালিকদের। বাকি খরচ জোগাতেও সুলভে ঋণ পেতে সাহায্য করবে নবান্ন।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, CNG ইঞ্জিন ব্যবহার করে বাস চালানোর খরচ ডিজেল ইঞ্জিনের চেয়ে প্রায় ৪৯ শতাংশ কম। কারণ, এখন এক কেজি CNG-র দাম কলকাতায় ৬৭ টাকা। দামের ফারাকটা এখানেই স্পষ্ট। এছাড়াও, CNG ইঞ্জিনের মাইলেজও ডিজেল ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি। প্রতি লিটার ডিজেলে যা মাইলেজ মেলে প্রতি কিলো CNG-তে তার চেয়ে অন্তত ২০-২৫ শতাংশ বেশি মাইলেজ পাওয়া যায় বলে দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের।
ইতিমধ্যেই কমপ্রেস্ড ন্যাচারাল গ্যাসের (CNG) পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতে কলকাতা, রাজারহাট, দুর্গাপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় পরিবেশবান্ধব CNG স্টেশন তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যজুড়ে সমস্ত সরকারি ডিপোয় CNG লাইন জুড়ে দিতে বেঙ্গল গ্যাস কর্পোরেশনের সঙ্গে চুক্তিও করে ফেলেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।
রাজ্য সরকারের এই প্রস্তাবে বাস মালিকদের সায় মিললে অনেকটাই কমবে জ্বালানির খরচ, বাঁচবে পরিবেশও। সেই সঙ্গে বাঁচবে রাজ্যে ধুঁকতে থাকা বাসশিল্প। শুধুমাত্র CNG-চালিত বাসই নয়, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ কলকাতার রাস্তায় নামতে চলেছে ১ হাজার ব্যাটারি চালিত বাস। তবে বাসের ইঞ্জিন বদলের ক্ষেত্রে কত খরচ হবে আর তার কতটা রাজ্য সরকার বহন করবে, এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।