আগামী ৬ মার্চ অবস্থান বিক্ষোভে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ মার্চ অবস্থান বিক্ষোভে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার এমনই কর্মসূচির কথা জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার বিকেলে SIR-পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তারপর থেকে ক্রমেই চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। রবিবার দুপুরে তার প্রেক্ষিতেই সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি জানান, '৬ মার্চ, মেট্রো চ্যানেল, এসপ্ল্যানেড ইস্টে দুপুর ২টো থেকে অবস্থান বিক্ষোভে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।' অভিষেক জানান, 'দলের সর্বস্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে মানুষ অংশ নেবেন। পরবর্তী দলীয় কর্মসূচিও ৬ মার্চই মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করে দেবেন।'
উল্লেখ্য, শনিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪।
প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জন। খসড়া তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯। সব মিলিয়ে মোট বাদ প্রায় ৬১ লক্ষ ৭৮ হাজার ২৪৫।
৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত। তাঁদের নথি যাচাই এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
৬ নম্বর ফর্মে যুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন। ৮ নম্বর ফর্মে যোগ হয়েছে আরও ৬ হাজার ৬৭১।
২৭ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯।
৫ লক্ষের বেশি সরকারি কর্মী, ৩৩ জন পর্যবেক্ষক, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৫০১ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এবং প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার বিএলএ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন।
খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে। এর মধ্যে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬।
মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্র ভবানীপুরে মোট ৪৭ হাজার ১১১ নাম বাদ। খসড়ায় বাদ ছিল ৪৪ হাজার ৭৮৭, চূড়ান্ত তালিকায় আরও ২ হাজার ৩২৪। বর্তমানে বিবেচনাধীন ১৪ হাজার ১৫৪।
কমিশনের ওয়েবসাইটে বিধানসভা ও বুথভিত্তিক তালিকা দেখা যাচ্ছে। এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করা যাবে। রাজনৈতিক দলগুলি হার্ড কপিও পাচ্ছে।
যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছে আপিল করতে পারবেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ ইতিমধ্যেই পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে কমিশনের দাবি, এত বড় কর্মযজ্ঞে সামান্য ভুলকে বড় করে দেখা ঠিক নয়।
তবে ২০২৬-এর আগে ভোটার মানচিত্রে এই বড়সড় পরিবর্তন রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা। তার মধ্যেই ৬ মার্চের ধর্না কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।