নদিয়ায় হুগলি নদীর পারে (ছবি: পিটিআই)দক্ষিণবঙ্গে শীতের আমেজ ক্রমেই ফিকে হচ্ছে। তারমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। তবে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই সম্ভাব্য নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। নিম্নচাপটি পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত
কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং নদিয়া, এই সব জেলায় আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে সকালের হালকা ঠান্ডা দ্রুত উধাও হবে এবং গরমের স্পর্শ ক্রমশ স্পষ্ট হবে।
আগামী সাত দিনে বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে, আবহাওয়া হবে শুষ্ক। সপ্তাহের শেষ দিকে পারদ আরও চড়তে পারে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি যে সামান্য শীতের ছোঁয়া মিলছে, তার স্থায়িত্ব আর বেশি দিন নয়। আবহাওয়া দফতরের বার্তা স্পষ্ট, নিম্নচাপ নিয়ে চিন্তু নয়, বরং ঋতুবদলের প্রস্তুতি নিন। দক্ষিণবঙ্গে শীতের বিদায় নিশ্চিত।
উত্তর ভারতে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী
এদিকে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতেও দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ছে। দিল্লি, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও বিহারে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩-৫ ডিগ্রি বেশি রেকর্ড হচ্ছে। জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭-২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারির স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম ভারতে আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও ৩-৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে পাহাড়ে তুষারপাত ও সমতলে হালকা বৃষ্টি হলেও এখন সেই প্রভাব দুর্বল হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ এলাকায় আকাশ পরিষ্কার ও রৌদ্রোজ্জ্বল।
আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদারর মতে, ফেব্রুয়ারির বাকি সময়ে বড় কোনও শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার সম্ভাবনা নেই। বরং শুষ্ক আবহাওয়ার জেরে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
কোথাও কোথাও ৩০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই
পশ্চিম ও উত্তর রাজস্থানের কিছু এলাকায় দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলেও সপ্তাহান্তে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আপাতত বড় পরিবর্তন দেখাবে না।
প্রাক-বর্ষার ইঙ্গিত?
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রাক-বর্ষার পূর্বাভাস হতে পারে। মার্চের দিকে বজ্রবিদ্যুৎসহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাখণ্ডে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তামিলনাড়ু, কেরল ও পন্ডিচেরিতেও বৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে পারে।