
একটির পর একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে বাংলায় যেন আর ঠিকমতো দাপট দেখাতে পারছে না শীত। মাঘ মাসের মাঝামাঝিতেই কি এ বছর শীতের বিদায় ঘটতে চলেছে, সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। কলকাতায় রাতের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে পৌঁছে গিয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কিছুটা বেশি। আগামী দিনে রাতের পারদ আরও বাড়বে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়াতেই দক্ষিণবঙ্গে শীতের দাপট কমে এসেছে। এর জেরেই জানুয়ারি শেষের দিকে এসে তাপমাত্রা আর খুব একটা নামছে না। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাজ্যের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় খুব একটা পরিবর্তন হবে না। তবে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই দিন ও রাত, দুই সময়েই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে।
সরস্বতী পুজোর দিন থেকেই রাজ্যে উষ্ণতার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। জানুয়ারির শেষের দিকে এসে সেই উষ্ণতা আরও বাড়বে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে হাওয়া অফিস। বুধবার রাতে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৪ ডিগ্রি বেশি। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
আগামী সাত দিন বাংলায় আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে। দিনের বেলায় শীতের আমেজ প্রায় থাকবেই না। তবে রাত ও ভোরের দিকে হালকা শীত অনুভূত হবে। এই সময়ে বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ থাকবে ৪৭ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা ভিন্ন পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। দার্জিলিংয়ে সপ্তাহের শেষের দিকে হালকা তুষারপাতের পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলাতেও দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তবে আপাতত উত্তরবঙ্গে ঘন কুয়াশার কোনও সতর্কতা নেই।
তাপমাত্রার দিক থেকে, দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলিতে রাতের তাপমাত্রা থাকবে ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।