বেশি বৃষ্টি মানেই ধানের ফলন বাড়বে, এমন গ্যারান্টি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাঁরা সঠিক পদ্ধতিতে জমিতে জল ধরা-ছাড়া করেছেন, তাঁদের এবার খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়। পশ্চিমবঙ্গে এবার আমন ধানের বেশ ভালই ফলন হতে চলেছে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর তার পিছনে অনুঘটক একটাই। বৃষ্টি। কৃষিবিদরা বলছেন, এবার দক্ষিণবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অন্য বিভিন্ন চাষে তাতে সমস্যা হয় বটে। কিন্তু আমন ধানের ক্ষেত্রে তাতে ভালই হয়েছে। যদিও বেশি বৃষ্টি মানেই ধানের ফলন বাড়বে, এমন গ্যারান্টি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাঁরা সঠিক পদ্ধতিতে জমিতে জল ধরা-ছাড়া করেছেন, তাঁদের এবার খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
আবহাওয়া দফতরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ১,২৬৫.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এমনিতে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ ১,১৬৬.৮ মিলিমিটার। অর্থাৎ, এই সময়ে দক্ষিণবঙ্গে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি ছিল। পূর্ব মেদিনীপুরে ৪৮ শতাংশ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৪০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গে ছবিটা আলাদা। সেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে।
বেশি বৃষ্টিতে আমন ধানে কী লাভ?
কৃষিবিদ তরুণ পাকড়াশী জানালেন, 'আমন ধানের চাষ মূলত বর্ষার বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল। জুলাই-অগাস্ট মাসে ধানের চারা রোপণ করা হয়। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফসল কাটার সময় আসে। তাই বর্ষায় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে জমিতে জল পাওয়া সহজ হয়। সেচের জন্য পাম্প চালানোর প্রয়োজন কমতে পারে। এতে চাষের খরচও কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকে।'
তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির সমস্যাও রয়েছে। জমিতে দীর্ঘ সময় জল জমে থাকলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ মাটিতে শুয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে শুধু বৃষ্টির পরিমাণ নয়, কোন সময়ে কতটা বৃষ্টি হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ধান উৎপাদনে বাংলার এখন কোথায়?
পশ্চিমবঙ্গ কৃষি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে রাজ্যে ২৫৬.৫৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছিল।
চিন্তা বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব
এ সবেরই মধ্যে চিন্তা বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। তার প্রভাবে রেডি ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। তবে এই ঝড়টুকু পার করতে পারলেই এবার বেশ ভালই ফলন হওয়ার কথা, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।