মমতা প্রসঙ্গে কী বললেন শমীক?'পশ্চিমবঙ্গের জনতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতিবাদ করতে দেবে না।', আজ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে এমনই চাঞ্চল্যকর কথা বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পরই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, ভোট পরবর্তী হিংসা ও বিজেপি সরকারের বিরোধিতায় রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বসবেন বলে ঠিক করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পুলিশ তাঁকে সেখানে ধর্না দেওয়ার অনুমতি দেয়নি। বরং মমতাকে বিকল্প হিসাবে ‘ওয়াই’ চ্যানেলে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল পুলিশের তরফে। ২ ঘণ্টার জন্য সেখানে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও সূত্রের খবর, তাতে প্রাথমিকভাবে রাজি হয়নি তৃণমূল। তবে এখন জানা যাচ্ছে, দুপুর ২টো নাগাদ ধর্নায় বসবেন মমতা। আর আজ সকালে এই বিষয়টা নিয়েই মুখ খুললেন শমীক।
এ দিন তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্টির কোনও কর্মী, কোনও এমএল, কোনও এমপি হোটেলে বসে গল্প করে, সেটা আলাদা কথা। কিন্তু রাস্তায় নেমে জনগণের সামনে আসার অবস্থা তৃণমূলের নেই।'
শমীকের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসকে মানুষ রিজেক্ট করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালও সবাই জানে। তাই এই মুহূর্তে বাংলার জনগণের সামনে তৃণমূল যত কম আসবে, ততই ভাল।
তাঁর কথায়, 'পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হালও এমনই। তিনি কোর্টে গিয়েছিলেন। কী হয়েছে, জনতা জানে। তৃণমূল কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে। একে অপরকে মারছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজর সরানোর জন্য দিল্লির কথা বলছেন। উনি দিল্লি আসতে পারেন। উনি আন্টার্কটিকা যেতে পারেন। মরুভূমি যেতে পারেন। যা খুশি করতে পারেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের জনতা তৃণমূল কংগ্রেসকে রিজেক্ট করেছে... খেলা শেষ।'
মাথায় রাখতে হবে, পশ্চিমবঙ্গ ভোটে বিরাট জয় পেয়েছে বিজেপি। ধরাশায়ী অবস্থা তৃণমূলের। এরপর থেকেই দিকে দিকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। এমনকী দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও সোনারপুরে পরিকল্পনা করে বিজেপি মেরেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে রানি রাসমণি রোডে আজ ধর্নায় বসতে চেয়েছিলেন মমতা। তবে তাতে সায় দেয়নি রাজ্য সরকার। তাঁরা তৃণমূল নেত্রীকে ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসার অনুমতি দেন। তারপরই এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন শমীক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে এখনই রাজ্যের মানুষের সামনে আসার মতো সময় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়নি। জনগণই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন প্রতিবাদ করতে দেবে না। মানুষ তৃণমূলকে রিজেক্ট করেছে।