কৃষকদের দেওয়া হবে অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা, আলু-ধান চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা স্বপনের

কৃষকদের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী ফসলবিমা যোজনা ইতিমধ্যেই রাজ্যে চালু করা হয়েছে জানিয়ে, অর্থমন্ত্রী বলেন ২০২৬-এর খরিফ মরশুম থেকে বর্তমান বছরের সকল ফসলের (১৬টি ফসল) জন্য এই সুরক্ষা পাওয়া যাবে। 

Advertisement
কৃষকদের দেওয়া হবে অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা, আলু-ধান চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা স্বপনেরআলু-ধান চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা স্বপনের
হাইলাইটস
  • কৃষকদের জন্য রাজ্য বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
  • অর্থমন্ত্রী বলেন ২০২৬-এর খরিফ মরশুম থেকে বর্তমান বছরের সকল ফসলের (১৬টি ফসল) জন্য এই সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
  • আলু চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

কৃষকদের জন্য রাজ্য বাজেটে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী  স্বপন দাশগুপ্ত। কৃষকদের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে প্রধানমন্ত্রী ফসলবিমা যোজনা ইতিমধ্যেই রাজ্যে চালু করা হয়েছে জানিয়ে, অর্থমন্ত্রী বলেন ২০২৬-এর খরিফ মরশুম থেকে বর্তমান বছরের সকল ফসলের (১৬টি ফসল) জন্য এই সুরক্ষা পাওয়া যাবে। 

এদিন অর্থমন্ত্রী বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত ঝুঁকির জন্য কৃষকরা বিভিন্ন সংকটময় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ১০০ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের ফান্ডিং-এ পিএম কিষান নামে একটি সেন্ট্রাল সেক্টর স্কিম চালু আছে। এই স্কিমে যোগ্য কৃষকরা তাঁদের কৃষির প্রয়োজনে তিনটি সমান কিস্তিতে বছরে ৬,০০০ টাকা পান। কৃষির জন্য কৃষকদের বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রতি কৃষক পরিবার পিছু বছরে অতিরিক্ত ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হল।"

পাশাপাশি, ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে কৃষি ফসলের জন্য ঋণ পাওয়ার সুবিধা করার জন্য রাজ্য সরকার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে একযোগে RBI Unified Lending Interface (ULI) সুবিধাযুক্ত ডিজিটাল কিষান ক্রেডিট কার্ড ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে চালুর প্রস্তাব পেশ করেছে। এই উদ্যোগের ফলে ঋণ অনুমোদনের সময়সীমা ১৫ দিন থেকে কমে ১৫ মিনিট হবে এবং এপিআই-নির্ভর জমির তথ্য প্রাপ্তির মাধ্যমে কাগজবিহীন ঋণ অনুমোদন সম্ভব হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে সারের ব্যবহার জাতীয় গড়ের থেকে অনেক বেশি। এজন্য যে অঞ্চলে সারের ব্যবহার খুব বেশি সেখানে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষে উৎসাহ দিতে PM National Mission on Natural Farming প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকৃতিনির্ভর স্থায়ী কৃষিব্যবস্থা উৎসাহিত হবে এবং খামারে তৈরি প্রাকৃতিক চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব কাঁচামালের ব্যবহার বাড়বে ও বাইরের কাঁচামালের উপর নির্ভরতা এবং খরচ দুই-ই কমবে।

ধান চাষিদের জন্য বড় ঘোষণা

ধান চাষিরা যাতে তাঁদের উৎপাদনের জন্য লাভজনক মূল্য পান তা নিশ্চিত করতে চাষিদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারত সরকার দ্বারা ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সরাসরি ক্রয়ের ব্যবস্থা রাজ্যে চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়ে দিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আরও সহায়তা দিতে খারিফ মরশুমে প্রতি কুইন্টালে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের উপর অতিরিক্ত ২০০ টাকা ইন্সেন্টিভ দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন তিনি। পাশাপাশি স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, "আমাদের সরকার ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ধাপে ধাপে বাড়িয়ে আগামী বছরগুলিতে কুইন্টাল প্রতি ৩,১০০ টাকা করবে।"

Advertisement

আলু চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা

স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ আলু উৎপাদনে দেশের মধ্যে অন্যতম প্রধান রাজ্য। কিন্তু এই ফসলের চাষ প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা ও বাজারগত ঝুঁকির ফলে ক্ষতির মুখে পড়ে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্পন্সর্ড স্কিম প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা চালু করেছে। এই স্কিমে কৃষকদের উপর প্রিমিয়ামের বোঝা কমাতে আমি প্রস্তাব করছি যে, ইতিমধ্যে কৃষকদের সরকার যে সহায়তা দিচ্ছে তার অতিরিক্ত দেয় বিমা প্রিমিয়ামের ৫০ শতাংশ সরকার বহন করবে।"

এই ক্ষেত্রে আর একটি প্রধান সীমাবদ্ধতা হল রোগ প্রতিরোধী আলুবীজ না-পাওয়া। তাই আলুচাষিদের হাতে সময়ের মধ্যে গুণমানসম্পন্ন আলুবীজ পৌঁছে দিতে রাজ্য আই.সি.এ.আর এর সঙ্গে সমন্বয়ে স্থানীয়ভাবে বীজ উৎপাদনের উপর উৎসাহ দেবে। এটি চালু না-হওয়া অবধি রাজ্য সরকার গুণমানযুক্ত ও রোগবিহীন আলু বীজ সংগ্রহ করে বিনামূল্যে আলুচাষিদের মধ্যে বিতরণ করবে। এজন্য  ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।

আম চাষিদের জন্য বড় ঘোষণা

আম চাষিদের জন্যও বড় ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, আম পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যানভিত্তিক ফসল। এর চাষ মালদা জেলা-যা ভারতের আমের রাজধানী নামে পরিচিত। মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও ব্যাপক আম চাষ হয়। রাজ্য জুড়ে ১০০ প্রকারের আমের ফলন হয়- যার মধ্যে বিশ্ববিখ্যাত হিমসাগর, ল্যাংড়া, আম্রপালি, আরজানুয়া এবং আসিনা। আমচাষিদের আয় বাড়াতে ও ভ্যালু চেন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে আধুনিক ফসল সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তিগত সুবিধা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পাশাপাশি ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ইন্টিগ্রেটেড প্যাক হাউস ইত্যাদি গড়ে তুলে আমের রফতানির উপর জোর দেওয়া হবে, এরজন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলেও জানান স্বপন দাশগুপ্ত।

 

POST A COMMENT
Advertisement