প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং রেলের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।West Bengal Budget 2026: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ। আগ্রহ-প্রত্যাশা তুঙ্গে রাজ্যবাসীর। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে, পশ্চিমবঙ্গে এসেই বাজেটের বিষয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠিও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, রেল পরিকাঠামো এবং অন্যান্য খাতে মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই জল জীবন মিশন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং রেলের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠিতে রাজ্যের উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কেন্দ্রের এই সমর্থন রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৎস্যচাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, বন্দরভিত্তিক অর্থনীতি, বস্ত্রশিল্প, পর্যটন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাকে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন নিয়েও আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং ফসলের বহুমুখীকরণ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, শিল্পোন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে আরও সহায়তা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, রাজ্যের প্রথম বাজেটের আগে সরকারি কর্মচারীদের নজর বকেয়া ডিএ এবং বেতন কমিশন সংক্রান্ত ঘোষণার দিকে। নির্বাচনী প্রচারে এই বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে অপচয় রোধের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
কেন্দ্রের তরফে আর্থিক সহায়তার ইঙ্গিত রাজ্যের বাজেট পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল। এখন নজর সোমবারের বাজেট অধিবেশনের দিকে।যেখানে বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ আর্থিক রূপরেখা ঠিক কেমন হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।