সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও কমিশনের গাইডলাইন মেনে শনিবার ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হয়। West Bengal final voter list 2026: বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ আসন্ন। তার আগে SIR পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও কমিশনের গাইডলাইন মেনে শনিবার ফাইনাল ভোটার লিস্ট প্রকাশিত হয়। আর সেই তালিকা ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। কারণ সংখ্যার অঙ্কেই ঘটেছে বড়সড় পরিবর্তন।
আগে কত ভোটার ছিল?
গত বছর ২৭ অক্টোবর যখন SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। অর্থাৎ, প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি ভোটার ছিলেন রাজ্যে।
এখন কত হল?
শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। অর্থাৎ, সংশোধন প্রক্রিয়ার শেষে প্রাথমিক সংখ্যার তুলনায় প্রায় ৬১ লক্ষেরও বেশি ভোটার কমেছে।
এই বিপুল হেরফেরই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
খসড়া থেকে চূড়ান্ত; কত বাদ?
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী;
তবে একই সঙ্গে নতুন সংযোজনও হয়েছে। ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন। ৮ নম্বর ফর্মে যুক্ত হয়েছে আরও ৬ হাজার ৬৭১ নাম।
৬০ লক্ষ ভোটার 'বিচারাধীন'
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল, চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটার এখনও 'বিচারাধীন' (Adjudication) হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ, তাঁদের নথিপত্র বিচারকদের অনুমোদনের অপেক্ষায়। বিচারকের 'সবুজ সঙ্কেত' না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
কমিশনের দাবি, যোগ্য ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্যদের স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বাদ দেওয়াই ছিল এই বিশেষ সংশোধনের মূল লক্ষ্য।
সিইও-র স্বীকারোক্তি
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্বীকার করে নেন যে, 'এই বিশাল কর্মযজ্ঞে কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে।' যদিও তাঁর দাবি, তা সামান্য এবং সংশোধনযোগ্য। অনলাইনে এপিক নম্বর দিয়ে তালিকা দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কারও সমস্যা হলে আপিলের সুযোগও রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব কতটা?
ভোটের আগে প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটার কমে যাওয়া নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে। যদিও কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি কাঠামোর মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবু ৬০ লক্ষ 'বিচারাধীন' ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে; এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আপাতত প্রকাশিত তালিকাকেই 'চূড়ান্ত' বলা হলেও, বিচারবিভাগীয় অনুমোদনের পর সংখ্যার অঙ্কে আরও বদল আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না কমিশন।