ফাইল ছবিপশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো বিস্তারের পথে বড়সড় অগ্রগতির কথা জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রাজ্যে একাধিক নতুন রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু করার অনুমোদন দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন মজবুত হবে, তেমনই ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট অনুযায়ী, মোট পাঁচটি নতুন রেললাইন প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁথি থেকে এগরা পর্যন্ত নতুন রেললাইন, নন্দকুমার থেকে বলাইপন্ডা পর্যন্ত রেল সংযোগ এবং নন্দীগ্রাম থেকে কেন্দামারি (নয়াচর) পর্যন্ত নতুন লাইন। পাশাপাশি হুগলি জেলায় বোয়াইচণ্ডী থেকে আরামবাগ এবং বোয়াইচণ্ডী থেকে খানা পর্যন্ত দুটি পৃথক রেললাইন প্রকল্প অনুমোদনের কথাও জানানো হয়েছে। এছাড়াও বাঁকুড়া (কলাবতী) থেকে পুরুলিয়া হয়ে হুড়া পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে এই তালিকায়।
এই প্রকল্পগুলিকে দীর্ঘদিনের জনদাবির ফল বলে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো একাধিক জেলায় রেল যোগাযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অপর্যাপ্ত ছিল। নতুন রেললাইন চালু হলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনই কৃষিপণ্য পরিবহণ, শিল্পপণ্য সরবরাহ এবং স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও বড় সুযোগ তৈরি হবে।
নিজের পোস্টে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।'
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেল সংযোগের দাবি উঠছিল, সেখানে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক, দু’দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রকল্পগুলির কাজ কবে শুরু হবে এবং কত সময়ের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হবে, সে বিষয়ে এখনও রেল মন্ত্রকের তরফে নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
তবে নতুন রেললাইন অনুমোদনের খবরে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকেরই আশা, এই প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এখন নজর কেন্দ্র ও রেল কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।