যোগ দিবসে অংশ না নিলেও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কোনও সরকারি কর্মী যোগ দিবসে অংশ না নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এমনটাই জানাল রাজ্য সরকার। যোগ দিবসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল এক সরকারি কর্মী সংগঠন। এদিন রাজ্যের এই বক্তব্যের পর মামলার নিষ্পত্তি করে দেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
এর আগে নবান্নের তরফে ১৪ জুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ২১ জুন সকাল ৬টা থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের অফিস, আবাসন, রেড রোড অথবা বিশ্ব বাংলা মেলা প্রাঙ্গণে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে। শুধু স্থায়ী কর্মী নয়, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক এবং দৈনিক ভাতা পান এমন কর্মীদেরও এই নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল।
এই নির্দেশিকার বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো-অর্ডিনেশন কমিটি। তাদের প্রশ্ন ছিল, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কেন বাধ্যতামূলক হবে? সংগঠনের দাবি ছিল, অংশগ্রহণ করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতকে জানান, যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ না নিলেও কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। রাজ্যের এই বক্তব্যের পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, যখন সরকার নিজেই জানাচ্ছে যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়, তখন মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই মামলার নিষ্পত্তি করে দেন।
যোগ দিবস ঘিরে আপাতত রাজ্যজুড়ে প্রস্তুতি তুঙ্গে। এর আগে আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গত বছর অন্ধ্রপ্রদেশে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এ বার সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের। যদিও বিচারপতি অমৃতা সিনহা রাজ্যকে অন্য কোনও রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় না যাওয়ার পরামর্শ দেন।