
রাজ্যের সব জেলাশাসককে 'হোল্ডিং সেন্টার' তৈরির নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর। Holding Centres For Bangladeshis: বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে 'ডিপোর্ট' করার তোরজোড় শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের সব জেলাশাসককে 'হোল্ডিং সেন্টার' তৈরির নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর। বেআইনিভাবে ভারতে থাকা বিদেশি নাগরিক এবং জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বিদেশি বন্দিদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তার আগে এই কেন্দ্রগুলিতে তাঁদের রাখা হবে বলে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
শনিবার(২৩ মে) রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর থেকে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের উদ্দেশে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে যাঁরা বেআইনিভাবে এদেশে রয়েছেন এবং ধরা পড়েছেন, তাঁদের জন্য পৃথক হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে যাঁরা বিদেশি বন্দি হিসেবে জেলে ছিলেন এবং মুক্তি পাওয়ার পর এখনও ডিপোর্ট বা প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁদেরও সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ২০২৫ সালের ২ মে-র নির্দেশিকার উল্লেখ করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেআইনিভাবে ভারতে থাকা বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা নাগরিকদের চিহ্নিত করা, আটক করা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই জেলা প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে বহুবার মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। রাজ্য সরকার বদল হতেই এ বার কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হল।
বিজ্ঞপ্তির কপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের ডিজি ও আইজিপি, সমস্ত পুলিশ কমিশনারেট, কলকাতার FRRO এবং সব জেলার পুলিশ সুপারদের কাছেও। ফলে প্রশাসন এবং পুলিশের যৌথ সমন্বয়ে এই প্রক্রিয়া এগোবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ফলে ধৃত বিদেশিদের পরিচয় যাচাই, আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রত্যর্পণের কাজ আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে রাজ্য প্রশাসন যে এই বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাইছে, সেই বার্তাও স্পষ্ট।