পুজোর আগে ফের পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক দিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। রাজ্য জুড়েই চলবে কর্ম বিরতি। রাতভর টানা ৮ ঘণ্টা জিবি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। নিরাপত্তা, থ্রেট কালচার এখনও বন্ধ হয়নি। যে কারণে এই সিদ্ধান্ত দাবি আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন তাঁরা।
মোট ১০ দফা দাবি করেছেন চিকিৎসকেরা। এর আগে ৭ দফা দাবি ছিল তাঁদের। সেই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তাঁদের সাংবাদিক বৈঠক করার কথা।
জুনিয়র ডাক্তাররা যে ১০ দফা দাবি এখন পেশ করেছেন, তা হল - নির্যাতিতার দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে হবে, স্বাস্থ্যসচিবের অপসারণ, হাসপাতাগুলিতে পুলিশি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে হবে, সমস্ত সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় রেফারেল ব্যবস্থা চালু করতে হবে, হাসপাতালের খালি বেডের মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাতে হবে, হাসপাতালগুলিতে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে, হুমকি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে, দ্রুত সমস্ত হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজে টাস্ক ফোর্স গঠন করে সিসিটিভি, প্যানিক বোতামের ব্যবস্থা করতে হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের গাফিলতি, নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া, ভয়ের রাজনীতি সহ একাধিক দাবিতে সরকারের কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেই বলে দাবি করেন তাঁরা। সোমবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সিসিটিভি লাগানোর কাজ এগোনো নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টও।
ফের কর্মবিরতি ঘোষণার ফলে সরকারি হাসপাতালে অসুবিধায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ। পুজোর আগে সরকারের ওপর ফের নতুন করে চাপ পড়তে চলেছে।
তারওপর কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকদের ওপর হামলার পরও সরকারের তরফে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ দেখছেন না, বলে দাবি জুনিয়র চিকিৎসকদের। জিবি বৈঠক শেষেও চিকিৎসকরা জানান, রাজ্যের তরফ থেকে বার বার নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি মিলেছে, তবে তা এখনও সুনিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।