দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত দুই সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। পশ্চিমবঙ্গ এখন সম্পূর্ণ মাওবাদী-মুক্ত। এমনটাই জানালেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত দুই সক্রিয় সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এরপরেই রাজ্য 'Maoist-Free' বলে জানান তিনি। আত্মসমর্পণকারীদের নাম মঙ্গল ও মালতী। তাদের কাছ থেকে AK47 রাইফেল-সহ বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গল ও মালতীর মাথার দাম যথাক্রমে ৫ লক্ষ ও ২ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল। দু’জনেই ঝাড়খণ্ড থেকে এসে ঝাড়গ্রাম ও সংলগ্ন জঙ্গল এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। পরে মূলস্রোতে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাঁরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
মঙ্গল-মালতী কাদের নির্দেশে চলত?
পুলিশ সূত্রের দাবি, সারেঙ্গা জঙ্গলে মাওবাদী নেতা আকাশের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তাঁদের। এই মঙ্গল এক সময়ে কিষেণজির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কীভাবে তাঁরা সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন এবং ঠিক কতটা সক্রিয় ছিলেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের জানুয়ারির পর তাঁরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। তারপরেই সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন মঙ্গল ও মালতী। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তাঁরা। সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েই পুলিশের হাতে অস্ত্র তুলে দেন দু’জনে।
মাওবাদী কার্যকলাপ রুখতে অভিযান
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১২ সাল থেকে রাজ্যে মোট ১৩ জন মাওবাদী পুলিশের ওয়ান্টেড তালিকায় ছিল। তাদের মধ্যে অনেকে আত্মসমর্পণ করেছেন। কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে মঙ্গল ও মালতীর মতো মাওবাদীর আত্মসমর্পণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ মহল।
মঙ্গলের কাছ থেকে AK47 রাইফেল ও কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। মালতীর কাছ থেকেও একটি অ্যাসল্ট রাইফেল পাওয়া গিয়েছে।