নবান্নের নির্দেশিকায় কোথায় বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ, জানুন নিয়মKali Puja 2026: আগামী ৮ নভেম্বর, রবিবার কালীপুজো ও দীপাবলি। তবে বাজি পোড়ানো নিয়ে বেশ কড়াকড়ি রয়েছে। বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে নবান্ন। শুধু নির্দিষ্ট সময়েই বাজি পোড়ানো যাবে। ব্যবহার করতে হবে অনুমোদিত সবুজ বাজি। কিন্তু বাজারে কোনটি আসল সবুজ বাজি, আর কোনটি সাধারণ বাজি, তা চিনবেন কীভাবে? শুধু প্যাকেটের গায়ে 'গ্রিন' বা 'ইকো ফ্রেন্ডলি' লেখা থাকলেই কি সেটি পরিবেশবান্ধব? কেনার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।
সবুজ বাজি চিনবেন কীভাবে?
সবুজ বাজি বা গ্রিন ক্র্যাকার তৈরি ও পরীক্ষার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংস্থা CSIR-NEERI দেখভাল করে। সাধারণ বাজির তুলনায় এই বাজিতে ক্ষতিকর কণা এবং নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস কমা বের হয়। প্রচলিত বাজির তুলনায় অন্তত ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পার্টিকুলেট ম্যাটার বা সূক্ষ্ম ধূলিকণা থাকে।
আসল সবুজ বাজি চেনার জন্য প্রথমেই প্যাকেটের গায়ে CSIR-NEERI-এর Green Fireworks Logo খুঁজুন। পাশাপাশি নির্দিষ্ট QR Code থাকতে হবে। স্মার্টফোন দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করে বাজিটির প্রস্তুতকারক সংস্থা, রেজিস্ট্রেশন দেখা যায়। প্যাকেটের তথ্যের সঙ্গে QR Code-এ পাওয়া ডেটা মিলিয়ে নিন। শুধু 'গ্রিন', 'পরিবেশবান্ধব' কিংবা 'দূষণমুক্ত' লেখা দেখে বাজি কিনবেন না। প্রস্তুতকারক সংস্থাটি CSIR-NEERI-এর অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নিন।
সবুজ বাজি সাধারণত তিন ধরনের। SWAS, STAR এবং SAFAL। SWAS-এর পুরো নাম Safe Water Releaser। STAR হল Safe Thermite Cracker। অন্য দিকে, SAFAL-এর অর্থ Safe Minimal Aluminium। এই বাজিগুলিতে বিশেষ রাসায়নিক উপাদান থাকে। তার মাধ্যমে দূষণ কমানোর চেষ্টা করা হয়। তবে মনে রাখবেন, সবুজ বাজি মানেই সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয়।
কালীপুজোয় কখন বাজি পোড়ানো যাবে?
নবান্নের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কালীপুজো ও দীপাবলির দিন অর্থাৎ ৮ নভেম্বর রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। মাত্র দু'ঘণ্টার জন্য এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাত ৮টার আগে কিংবা ১০টার পরে বাজি পোড়ানো যাবে না। আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে। ছটপুজোর ক্ষেত্রেও আলাদা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ১৫ নভেম্বর ছটপুজোর দিন সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বাজি পোড়ালে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
কোথায় বাজি পোড়ানো যাবে না?
হাসপাতাল, নার্সিংহোম, বৃদ্ধাশ্রম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো যাবে না।
শুধু তাই নয়, বহুতল আবাসন বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাজি পোড়ানোর সময় ধোঁয়া ও শব্দের মাত্রার দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং আলোর বাজির ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেলের সীমা উল্লেখ করেছে রাজ্য প্রশাসন। ফলে অনুমোদিত সবুজ বাজি হলেও শব্দের বিধি অমান্য করা যাবে না।
বাজির বাজার নিয়েও কড়া নির্দেশ নবান্নের
শুধু বাজি পোড়ানো নয়, বাজি তৈরি থেকে শুরু করে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। বাজি তৈরি, মজুত, পরিবহণ, বিক্রি এবং ব্যবহারে নজরদারি চালানো হবে।
বাজির বাজার জনবসতি থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় বসাতে হবে। দোকানগুলির মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব রাখতে হবে। বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুলিশ, পুরসভা ও দমকল যৌথভাবে এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে।
এছাড়া কালীপুজো ও দীপাবলিতে ফানুস ওড়ানো যাবে না। দমকল বিভাগের আগাম অনুমতি বা লাইসেন্স নিতে হবে। তবেই নির্দিষ্ট এলাকায় ফানুস ওড়ানো যাবে।
নিয়ম ভাঙলে কী হবে?
বেআইনি বাজি তৈরি, মজুত, পরিবহণ কিংবা বিক্রি করলে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, উৎসবের দিনগুলিতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হবে।