রেল নিয়ে এখনও পর্যন্ত যা-যা আপডেট।পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর থেকে রেল যোগাযোগ উন্নত করতে একাধিক প্রকল্প ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন ট্রেন চালু, আটকে থাকা রেল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং মেট্রোর অসম্পূর্ণ অংশের কাজ শেষ করার মতো বিষয়গুলি রয়েছে সেই তালিকায়। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাঁতরাগাছি-জয়পুর ট্রেনের সূচনা করেন। তবে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদন, সমীক্ষা বা নির্মাণের কাজ চলছে।
১. সাঁতরাগাছি থেকে জয়পুর, নতুন ট্রেন
২৬ অক্টোবর চালু হয়েছে জয়পুরের খাটিপুরা, টাটানগর ও সাঁতরাগাছিকে যুক্ত করা নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন। এর ফলে রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও বাংলার মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হওয়ার আশা। পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং কাজের জন্য অন্য রাজ্যে যাতায়াত করা যাত্রীরা উপকৃত হতে পারেন।
২. নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি লাইনে জোড়া লাইন
উত্তরবঙ্গে রেল চলাচলের চাপ কমাতে নিউ জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি অংশে লাইন দ্বিগুণ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অংশ উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্য এলাকার রেল যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ। কাজ এগোলে ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা বাড়তে পারে।
৩. শালিমার-অযোধ্যা থার্ড লাইনের সমীক্ষা
শালিমার থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত প্রস্তাবিত তৃতীয় রেললাইন তৈরির জন্য চূড়ান্ত অবস্থান সমীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরির পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে সমীক্ষার অনুমোদন মানেই নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাওয়া নয়।
৪. আটকে থাকা ১৭টি রেল প্রকল্পে গতি আনার চেষ্টা
প্রান্তিক-সিউড়ি, কাঁথি-এগরা, রায়গঞ্জ-ইটাহার এবং নন্দকুমার-বালাইপণ্ডার মতো রেলপথের প্রকল্পগুলি নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে রেল মন্ত্রক। জমি অধিগ্রহণ-সহ নানা সমস্যায় আগে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। এখন সেগুলির সমীক্ষা ও পরিকল্পনার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ হয়েছে।
৫. কলকাতা মেট্রোর অসম্পূর্ণ অংশে কাজ
কলকাতার নিউ গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো করিডরের বেলেঘাটা-সেক্টর ফাইভ অংশে নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রক। ২৬ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী এই অংশের উদ্বোধনের জন্য দ্রুত সময় চেয়েছেন। পরীক্ষা ও শংসাপত্রের প্রক্রিয়া শেষ হলে বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকার আসার পর রেল যোগাযোগ নিয়ে একাধিক ঘোষণা, অনুমোদন এবং নির্মাণের অগ্রগতির খবর সামনে এসেছে। তবে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত শেষ হয় এবং পরিষেবা কবে থেকে চালু হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।