
আজ, সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন। তারপরেই তীব্র হতাশা, বিক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সভা ডাকেন। এদিন তিনি কী আশ্বাস দেন তিনি, সে দিকেই তাকিয়ে সবাই।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য রবিবার রাত থেকেই জড়ো হন বহু চাকরিহারা শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারী। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, সকলকে ভিতরে যাওয়ার 'পাস' দেওয়া হচ্ছে না। 'পাস' বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি তোলেন অনেকে। এই নিয়ে সোমবার সকাল থেকেই নেতাজি ইন্ডোরের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের প্রবেশদ্বার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ডিসি সেন্ট্রাল।
উল্লেখ্য, যোগ্য-অযোগ্য বাছা সম্ভব নয় বলে ২০১৬-র এসএসসি নিয়োগের সম্পূর্ণ প্যানেলই বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকে। এরপরেই জীবনে অন্ধকার নেমে আসে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর। সরকারি চাকরি হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েন তাঁরা।
এরপরেই সোমবার, ৭ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের সভা ডাকেন। আজ তিনি ঠিক কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যাঁরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের গালিগালাজ করছেন, তাঁদের বলব, আপনারা তো সব জায়গাতেই লোক পুষে রেখেছেন। আপনারাই কোনও কলকাঠি নাড়েননি তো?
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: সুপ্রিম কোর্টে যদি না হয়...(চাকরিহারাদের হট্টগোল) না না, মাইনাসটা তো আমাকে বলে রাখতে হবে... না হলে আমি শিক্ষা দফতরকে অনুরোধ করতে পারি, আপনারা যাতে চাকরি ফিরে পান সেই ব্যবস্থা প্রসেসের মধ্যে দিতেই করা হবে। আপনাদের চাকরি ব্রেক হবে না। নিয়ম মেনেই ফের নিয়োগ করা হবে। আমি চাই মানবিকতার খাতিরে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানাক, কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য। আমাদের হাতে লিস্ট দিক।
আমি বেঁচে থাকাকালীন যোগ্য কারও চাকরি যেতে দেব না, ইট ইজ মাই কমিটমেন্ট: মমতা
সুপ্রিম কোর্ট জানাতে পারেনি, কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য: মমতা
২৬ হাজার চাকরিহারাদের প্রতিনিধি হিসেবে ২০ জনের একটি গ্রুপ গড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরাই এদিনে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে স্থান পেয়েছেন।
'আপনাদের শোকে আমাদের হৃদয় পাথর হয়ে গিয়েছে। আমাদের হৃদয়ে পাথর নেই। একথা বলার জন্য আমাকে জেলে ভরে দেওয়া যেতে পারে। আমি মনে করি মানুষ যখন বিপদে পড়ল সে কী রঙের দেখার দরকার নেই, তাদের অহঙ্কার, মর্যাদা, অস্তিত্বকে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারি না।'
কবি সুবোধ সরকার বললেন, আমি জানি আপনারা কার কথা শুনতে চাইছেন। তিনি কথা বলবেন। আমি দু মিনিটে একটি ছোট কথা আপনাদের বলি। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আমরা আজ তাকিয়ে আছি। তিনিই সেই অভিভাবক, যিনি আমাদের, আপনাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। আপনাদের হাহাকার আমাদের বিদীর্ণ করে চলেছে। আমরা ঘুমোতে পারছি না। কিছু মানুষ আপনাদের পথে বসিয়ে, বিপদে ফেলে উল্লসিত। আজ আমাদের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়াতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্রেষ্ঠ মানবিক মুখ্যমন্ত্রী।
আবুল বাশার বলেন, 'ভারতবর্ষের বিচার ব্যবস্থা একটা অন্ধ গলিতে ঢুকে পড়েছে, একটা প্রহসেন পরিণত হয়েছে। এদের ওপর আর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। বাঙালিকে সংকটে ফেলেছে। গভীর ষড়য়ন্ত্র। রাজনীতি রয়েছে।' মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাঁর ১০০% আস্থা রয়েছে বলে জানালেন আবুল বাশার।
'বঞ্চিতদের সঙ্গে আমি সহমত যে, ভারতের বিচার ব্যবস্থা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। এদের উপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। বাঙালিকে মহাসঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। এর পিছনে রাজনীতি রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষকদের পাশে থাকবেন এই আশা করি।'
'আইনের কি কোনও মানবিকতা নেই? যে আইনের কোনও মানবিকতা নেই সেই আইন মানি না। বিরোধী দলগুলো এখন শিক্ষকদের চাকরি হারানো নিয়ে সুযোগ খুঁজছেন।'
চাকরিহারারা নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে। কেউ বলছেন, বাবার চিকিত্সার খরচ জোগাতে পারছেন না। কারও বক্তব্য, সন্তানকে স্কুল থেকে ছাড়িয়ে দিতে হবে। মাইনে না পেলে। সরাসরি দেখুন।
৭ বছর পর্যন্ত নতুন করে পরীক্ষা দিতে চাই না, স্পষ্ট জানালেন চাকরিহারাদের এক প্রতিনিধি। তিনি সর্বদলীয় বৈঠকেরও দাবি করলেন বক্তব্য রাখার সময়।
'বৈধদের পরিচ্ছন্ন তালিকা নিয়ে রিভিউ পিটিশনে যেতে হবে। এটা আমাদের আর্জি। আমাদের রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আইনজীবীরা বলছেন আমাদের প্রতি অবিচার হয়েছে। সেজন্য সর্বদলীয় বৈঠকের আবেদন জানাচ্ছি।'
'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আমরা মানতে পারছি না। আমরা বঞ্চিত হয়েছি। আমরা রায়কে পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাচ্ছি। কোর্টে আমরা যাব। এবং আমরা দাবি রাখছি যে বিচারপতি রায় দিয়েছেন তার বেঞ্চে রিভিউ পিটিশন চাইছি না। যতদিন রিভিউ পিটিশন না হচ্ছে ততদিন আমাদের চাকরি রাখতে হবে।'
এসএসসি দুর্নীতির প্রতিবাদে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে বিক্ষোভ অভিযান করবে বিজেপি। অন্যদিকে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভুয়ো নথি দেখিয়ে ‘পাস’ সংগ্রহ করার চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। নেতাজি ইন্ডোরের সামনে থেকে তাঁকে আটক করে ভ্যানে তোলা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে।
নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের সঙ্গে চাকরিহারাদের সভা শুরু।
শিক্ষামন্ত্রী ও মুখ্যসচিব পৌঁছালেন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সাড়ে ১১টা নাগাদ পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ চাকরিহারাদের সঙ্গে সভা।
নেতাজি ইন্ডোরে পৌছলেন মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে বারোটায় বৈঠকে বসার কথা তাঁর। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই পৌঁছে যান তিনি। আবুর বাশার, শুভাপ্রসন্নর মতো শিল্পীরা থাকবেন বৈঠকে।
নেতাজি ইন্ডোরে পৌঁছোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পরেই শুরু বৈঠক।